কৃষ্ণপুরে বন্য হাতির তাণ্ডব অব্যাহত, রেডিও কলার প্রকল্প ভেস্তে যাওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে গ্রামবাসী

খোয়াই, ১৮ ফেব্রুয়ারি: কৃষ্ণপুর বিধানসভা কেন্দ্রজুড়ে বন্য দাঁতাল হাতির তাণ্ডবে চরম আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। দিন-রাত নির্বিশেষে হাতির দল হানা দিয়ে ফসল নষ্ট করছে, বাড়িঘর ভাঙচুর করছে, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। কপালিটিলা, বালুছড়া, উত্তর মহারানী ও কৃষ্ণপুর-সহ একাধিক গ্রামবাসী এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

গ্রামবাসীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এই সমস্যা চললেও স্থায়ী সমাধান মেলেনি। বনদপ্তর বিপুল অর্থ ব্যয় করে বন্য হাতিদের গলায় রেডিও কলার পরানোর উদ্যোগ নিয়েছিল, যাতে তাদের গতিবিধি ট্র্যাক করে আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া যায়। কিন্তু সেই প্রকল্প কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে রেডিও কলারগুলি খাঁচাবন্দি অবস্থায় খোয়াই জেলা বনদপ্তরের কার্যালয়ের সামনে পড়ে রয়েছে বলে অভিযোগ—যা প্রশাসনিক ব্যর্থতার নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এছাড়া ধর্মনগর থেকে পালক হাতি এনে বন্য হাতিদের গ্রামে ঢোকা
রুখতে চেষ্টা করা হলেও তাতেও সাফল্য মেলেনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, বন্য হাতির মুখোমুখি হলে পালক হাতিরাই ভয়ে সরে যায়। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বদলে আরও অবনতি হয়েছে।
নিয়মিত ফসলহানি, বাড়িঘর ভাঙচুর এবং প্রাণহানির আশঙ্কায় চরম উদ্বেগে রয়েছেন কৃষক ও সাধারণ মানুষ। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। নচেৎ একসময় সর্বস্বান্ত হয়ে পড়তে হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে।

এলাকাবাসীদের একাংশের অভিযোগ, এই গুরুতর সমস্যা নিয়ে এলাকার বিধায়ক তথা জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা কার্যত নীরব ভূমিকা পালন করছেন। বহুবার বিষয়টি জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁরা।

বর্তমানে কৃষ্ণপুরে হাতির তাণ্ডব শুধু বনদপ্তরের সীমাবদ্ধতাই নয়, প্রশাসনিক উদাসীনতার প্রতীক হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নজরদারি, সতর্কীকরণ ব্যবস্থা ও ক্ষতিপূরণের কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। মানুষের জীবন ও জীবিকার সুরক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সময়ের দাবি।

————–

Leave a Reply