বিলোনিয়ায় বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে ভস্মীভূত দিনমজুরের বাড়ি, তিন সন্তান নিয়ে দিশেহারা গোপাল মজুমদারের পরিবার

বিলোনিয়া, ১৮ ফেব্রুয়ারি: ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একমাত্র বসতঘর হারিয়ে পথে বসেছেন দিনমজুর গোপাল মজুমদার। ঘটনাটি ঘটেছে বিলোনিয়া শহরের সুকান্তনগর এলাকায়। আগুনে সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে তাঁর বসতবাড়ি। বর্তমানে তিন সন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন গোপাল মজুমদার ও তার স্ত্রী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় বাড়িতে কেউ উপস্থিত ছিলেন না। আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়—বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট নাকি অন্য কোনও কারণ, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো ঘরটিকে গ্রাস করে নেয়।

অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে সরাসরি বাড়ির সামনে পৌঁছাতে পারেনি। অভিযোগ, আধুনিক অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জামের অভাবেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল কর্মীরা কার্যত অসহায় হয়ে পড়েন। স্থানীয়দের দাবি, পর্যাপ্ত সরঞ্জাম না থাকায় আগুন নেভানোর কাজে ব্যর্থতা দেখা যায় এবং শেষ পর্যন্ত ঘরটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসীর একাংশের মতে, ভাঙা রাস্তা ও দপ্তরের অব্যবস্থাপনাই এই বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। মানুষের জীবন ও সম্পত্তি রক্ষার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দমকল দপ্তরে আধুনিকতার ছোঁয়া ও উন্নতমানের সরঞ্জাম না থাকায় জরুরি পরিস্থিতিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ।

এদিকে, ঘটনার খবর পেয়ে বুধবার সকালে বিলোনিয়ার বিধায়ক দীপঙ্কর সেন এক প্রতিনিধি দল নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাড়িতে যান। তিনি গোপাল মজুমদার ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পাশে থাকার আশ্বাস দেন।

পাশাপাশি স্থানীয় মণ্ডল সভাপতি ও পঞ্চায়েত সমিতির চেয়ারম্যান পুতুল পাল বিশ্বাসও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিবারটির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। কঠিন এই সময়ে তাঁদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন এবং প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে কথা বলার আশ্বাস দেন।

বর্তমানে মাথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়ে তিন সন্তানকে নিয়ে চরম দুর্দশার মধ্যে রয়েছেন দিনমজুর গোপাল মজুমদারের পরিবার। স্থানীয় মহলের দাবি, দ্রুত আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক, যাতে এই পরিবারটি নতুন করে জীবন শুরু করতে পারে।

Leave a Reply