আগরতলা, ১৭ ফেব্রুয়ারি: বর্তমান সরকার সাংবাদিক বান্ধব। অনেকেই নিজেদের চেয়ারের জোরে সাংবাদিকদের উল্টোপাল্টা কথা বলেন এবং অভদ্র ভাষা ও মিথ্যা কথার আশ্রয় নেন। এটা আমাদের সংস্কৃতি নয়। সেসব কোন অবস্থায় বরদাস্ত করা হবে না। আগামীদিন আমরা যা করার করবো। আমরা সবাইকে সম্মান দিতে চাই। আমরা সবাইকে নিয়ে চলতে চাই। একটা নতুন ত্রিপুরা তৈরি করতে চাই। আজ উনকোটি জেলার ফটিকরায়ের ডেমডুমে ভারতীয় জনতা পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত এক জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে গনতন্ত্রের চতুর্থস্তম্ভের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা আরো বলেন আলোচনায় বলেন, রাজ্য সরকার সকলের কাছে স্বচ্ছ সুশাসন পৌঁছে দেওয়ার জন্য কাজ করছে। এজন্য ইতিমধ্যে প্রতি ঘরে সুশাসন কার্যক্রম দুই পর্যায়ে করা হয়েছে। আর জনজাতি অংশের মানুষের উন্নয়নের জন্য এডিসিকে বিভিন্ন সময়ে কোটি কোটি টাকা আর্থিক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যদিও সেসবের হিসেবে মিলেনি। মানুষের জন্য কাজ করার কোন দৃষ্টিভঙ্গি নেই তাদের। শুধু নিরাপত্তা রক্ষী নিয়ে আরাম আয়াসে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। ভিলেজ নির্বাচন নিয়ে রাজ্য সরকার প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, ককবরক সহ অন্যান্য সংখ্যালঘু ভাষার উন্নয়নের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার। স্বচ্ছতার সঙ্গে রাজ্যকে পরিচালিত করার চেষ্টা করছে আমাদের সরকার। রাজ্য সরকার চায় সব অংশের মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন। আমরা রাজ্যের সব অংশের মানুষকে নিয়ে একটা নতুন ত্রিপুরা তৈরি করতে চাই।
সভায় মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আজ এই সভায় যারা ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগদান করেছেন আমি তাদের সকলকে স্বাগত জানাই। তারা সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আজ এই জনসভায় যে পরিমাণে জনজাতি অংশের ভাই বোনেরা উপস্থিত হয়েছেন সেটা দেখে আমি সত্যিই আপ্লুত। এই বিপুল সংখ্যায় উপস্থিতির অর্থ হচ্ছে তাদের ভারতীয় জনতা পার্টির প্রতি সমর্থন এবং আমাদের যিনি অভিভাবক প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস। প্রধানমন্ত্রীর সবকা সাথ, সবকা বিকাশ, সবকা বিশ্বাস, সবকা প্রয়াস এর দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আমাদের সরকার সবার উন্নয়নে কাজ করছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ককবরক ভাষাকে কিভাবে উন্নয়ন করা যায় তার চেষ্টা চলছে। সেই সঙ্গে অন্যান্য সংখ্যালঘু ভাষার উন্নয়নের জন্যও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার। ডাঃ সাহা বলেন, ত্রিপুরায় একটা অদ্ভুত একটা অবস্থা চলছে। সারা ভারতবর্ষে যে রাজনীতি চলেছিল এতদিন সেটা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাল্টে দিয়েছেন। আগের রাজনীতি মানে গদি দখল করা, লুটপাট করা, দুর্নীতি করা। কিন্তু দুর্নীতি কেলেঙ্কারি ছাড়াও যে দেশ চালানো যায় সেটা করে দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমাদের ত্রিপুরা সরকারও চেষ্টা করছে কিভাবে স্বচ্ছতার সঙ্গে রাজ্য চালানো যায়। আমরা চাই সব অংশের মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন। আমরা জনজাতি অংশের মানুষকে আরো শক্তিশালী করতে চাই।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, মানুষকে জাতিগতভাবে সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি দিয়ে রাজনীতি করা যায় না। এটা কোন সময় কাম্য নয়। মানুষকে বিভ্রান্ত করা বা বোকা বানানোর জন্য অনেক আন্দোলন হয়েছে। তিপ্রাল্যান্ড নিয়েও অনেক রাজনীতি হয়েছে। এখন আবার আরেকটা পার্টি বলছে তিপ্রাল্যান্ড দিয়ে হবে না, তাই গ্রেটার তিপ্রাল্যান্ড লাগবে। কোমলমতি জনজাতি ভাইবোনদের দিয়ে এসব বিভ্রান্তিকর রাজনীতি করা হচ্ছে। আর আমাদের প্রধানমন্ত্রী সবদিকে নজর রেখে মানুষের কল্যাণে কাজ করছেন। দেশকে ক্রমশ সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এবারের বাজেটেও জনজাতিদের উন্নয়নে অধিক পরিমাণ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। জনজাতিদের সম্মান প্রদানের লক্ষ্যে কাজ করছে এই সরকার। আমরা চাই তাদের কৃষ্টি সংস্কৃতি পরম্পরা সংস্কার অটুট থাকুক। জনজাতি সমাজপতিদের সাম্মানিক ভাতা ২ হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। জনজাতিদের উন্নয়নে কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করার জন্য জেলা ও মহকুমা স্তরে টিসিএস সমতুল্য আধিকারিক নিয়োগ করা হয়েছে।
সভায় মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, আপনারা ভেবে দেখুন যে রাজ্য সরকার আমরা চালাচ্ছি। কিন্তু রাজ্য সরকারের কয়জন মন্ত্রী বিদেশে গেছেন? অথচ তারা এডিসি চালিয়ে বিদেশ যাচ্ছেন। এই পয়সা কোথা থেকে পায় তারা? যেখানে বিদেশে যাওয়ার ক্ষমতা নেই আমাদের। লুট চলছে এখন চারিদিকে। বিদেশ ভ্রমণের পয়সার কথা বলা হলে উত্তর আসে যে নিজের পয়সা দিয়ে যায়। আর যাদেরকে বিদেশে পাঠানো হচ্ছে তারাই ফ্ল্যাগ ফেস্টুন ফেলে দেওয়ার কাজে লিপ্ত হচ্ছে। মানুষকে হুমকি ধমকি দেওয়া হচ্ছে।
সভায় উপস্থিত ছিলেন যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া মন্ত্রী টিংকু রায়, তপশিলি কল্যাণ মন্ত্রী সুধাংশু দাস, বিধায়ক স্বপ্না দাস পাল, ভারতীয় জনতা পার্টির প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা, উনকোটি জেলার সভাধিপতি অমলেন্দু দাস, ধলাই জেলা সভাপতি প্রতিরাম ত্রিপুরা সহ দলের জেলা ও মন্ডল স্তরের শীর্ষ নেতৃত্ব। উল্লেখ্য, এই সভা থেকে ৫৭ পরিবারের ২১৫ জন ভোটার ভারতীয় জনতা পার্টির পতাকা তলে সামিল হন। তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপি দলে বরণ করে নেন মুখ্যমন্ত্রী সহ অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্ব।

