পাটনা, ১৬ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): রামবিলাস পাসওয়ানকে নিয়ে বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব-এর বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে সোমবার বিহার বিধানসভার বাজেট অধিবেশন তুমুল অশান্তিতে ভরে ওঠে। শাসক ও বিরোধী— উভয় পক্ষের বিধায়কেরাই প্ল্যাকার্ড হাতে স্লোগান দিতে শুরু করলে কার্যত অচল হয়ে পড়ে অধিবেশন।
অধিবেশন শুরু হতেই দুই পক্ষের বিধায়কেরা দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। স্পিকার বারবার আসন গ্রহণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানালেও হট্টগোল থামেনি। বিশৃঙ্খলার মধ্যেই প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হলেও ‘হায়-হায়’ স্লোগানে কার্যক্রম কার্যত ডুবে যায়।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় যখন লোক জনশক্তি পার্টি (রামবিলাস)-এর বিধায়কদল নেতা রাজু তিওয়ারি বিষয়টি উত্থাপন করেন। তিনি অভিযোগ করেন, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামবিলাস পাসওয়ান সম্পর্কে তেজস্বী যাদবের মন্তব্যে তাঁর সমর্থক ও দলিত সমাজের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে। তিনি তেজস্বীর প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানান।
এরপর বিরোধী দলীয় বিধায়কেরা প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভে সামিল হন। শাসক জোটের সদস্যরাও প্রতিবাদে যোগ দিলে বিধানসভায় তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়।
লোক জনশক্তি পার্টি (রাম বিলাস)-এর বিধায়কেরা দাবি করেন, প্রয়াত এক বর্ষীয়ান নেতাকে অসম্মান করা হয়েছে এবং দলিত সমাজের মর্যাদায় আঘাত লেগেছে। তাঁদের বক্তব্য, রামবিলাস পাসওয়ানের মতো নেতার বিরুদ্ধে এ ধরনের ভাষা ব্যবহার সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
উত্তপ্ত বিতর্কের সময় অতীত রাজনৈতিক প্রসঙ্গও টানা হয়। রামবিলাস পাসওয়ান নির্বাচনে হেরে রাজ্যসভায় গিয়েছিলেন— এমন মন্তব্য ঘিরে আরও ক্ষোভ ছড়ায়। তাঁকে ‘গরিব’ বলা হয়েছে বলেও আপত্তি তোলেন এলজেপি(আরভি) বিধায়কেরা, যা তাঁরা অপমানজনক বলে দাবি করেন।
এলজেপি(আরভি)-র সদস্যরা আরজেডিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, “আরজেডি ২৫টি আসন জিতেছে ঠিকই, কিন্তু পরের নির্বাচনে শূন্যতেও নেমে আসতে পারে। আমরা ১৯ জন বিধায়ক— সেটাই যথেষ্ট। আমরা দুর্বল নই।”
বারবার স্পিকারের হস্তক্ষেপ সত্ত্বেও দিনের অধিকাংশ সময়ই কার্যত স্থগিত থাকে বিধানসভার কাজকর্ম।

