জয়পুর, ১৬ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): রাজস্থান হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে নির্ধারিত সময়েই রাজ্যে পুরসভা নির্বাচন হবে এবং ‘বিকাশ’ বা উন্নয়নই হবে প্রধান ইস্যু— এমনটাই জানালেন রাজস্থান বিজেপি সভাপতি ও রাজ্যসভার সাংসদ মদন রাঠোর।
আইএএনএস-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভোটাররা শান্তি, কর্মসংস্থান, খাদ্য নিরাপত্তা ও উন্নয়ন চান। “মানুষ মর্যাদাপূর্ণ জীবনের জন্য স্থিতিশীল পরিবেশ চায়। বিজেপি নেতৃত্বাধীন রাজস্থান সরকার সেই প্রতিশ্রুতিতেই অঙ্গীকারবদ্ধ,” বলেন তিনি।
‘রাইজিং রাজস্থান ইনভেস্টমেন্ট সামিট’ নিয়ে কংগ্রেসের সমালোচনার জবাবে রাঠোর বলেন, পূর্ববর্তী কংগ্রেস সরকারে অভ্যন্তরীণ ‘টানাপোড়েন’-এর জেরে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, যার ফলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যায়। “অনিশ্চিত পরিবেশে কেউ বিনিয়োগ করতে চায় না। এখন কেন্দ্র ও রাজ্যে স্থিতিশীল ডাবল ইঞ্জিন সরকার থাকায় বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরেছে,” দাবি তাঁর।
রাঠোর জানান, রাজস্থানে ইতিমধ্যেই ৩১ লক্ষ কোটি টাকার সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং ৮ লক্ষ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে।
সম্প্রতি ঘোষিত রাজ্য বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ভজনলাল শর্মা-র বাজেটে কৃষকদের জন্য একাধিক কল্যাণমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খেতের বেড়া (তারবন্দি), কৃষিযন্ত্র কেনায় সহায়তা এবং সুদমুক্ত ঋণের মতো প্রকল্পের উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি জানান, কেন্দ্রের ভারতমালা পরিযোজনা প্রকল্পের অধীনে সড়ক পরিকাঠামো উন্নত হচ্ছে। বিদ্যুৎ সরবরাহের উন্নতি, দিনে জল সরবরাহ, চিকিৎসা পরিষেবা শক্তিশালীকরণ এবং যুবকদের কর্মসংস্থানের বিষয়েও সরকার কাজ করছে বলে দাবি করেন রাঠোর। তাঁর কথায়, “রাজ্যে প্রায় এক লক্ষ চাকরি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। দারিদ্র্য হ্রাসে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আবাসন ক্ষেত্রে বিশ্বমানের পরিষেবা দেওয়াই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য বলে জানান বিজেপি রাজ্য সভাপতি। তাঁর দাবি, স্লোগানের বদলে তৃণমূল স্তরে উন্নয়নের কার্যকর বাস্তবায়নেই জোর দিচ্ছে সরকার।
দেশজুড়ে বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) প্রসঙ্গে রাঠোর বলেন, “ভোট দেওয়া প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকদের অধিকার। এসআইআর নিশ্চিত করবে যে বৈধ ভোটাররাই দেশের নেতৃত্ব নির্ধারণ করবেন।” তিনি জানান, এটি কোনও রাজনৈতিক দলের লাভ-ক্ষতির বিষয় নয়।
পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজস্থানের বিজেপি নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও জানান রাঠোর। তাঁর বক্তব্য, “বিজেপির কাছে দেশই প্রথম। যেখানে নির্বাচন হয়, সেখানেই আমাদের কর্মীরা দায়িত্ব নিয়ে কাজ করেন।”

