আগরতলা, ১৫ ফেব্রুয়ারি: উত্তর ত্রিপুরার প্রান্তিক গ্রামে রবিবারের সকাল। দশটা ছুঁইছুঁই সময়ে হঠাৎই দামছড়া জনজাতি ছাত্রী নিবাসে হাজির জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। পূর্বঘোষণা ছাড়াই এই পরিদর্শন—কিন্তু তাতে ছিল না আনুষ্ঠানিকতার আড়ম্বর, বরং ছিল শিক্ষার পরিবেশ ঘিরে সরেজমিন খোঁজখবরের চেষ্টা।
মন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ছাত্র-ছাত্রীদের প্রকৃত অর্থে শিক্ষিত করতে গেলে প্রথম শর্ত শিক্ষার মানোন্নয়ন। আর মানোন্নয়ন বলতে শুধু বই-পাঠ নয়—অত্যাধুনিক পরিকাঠামো, সুশৃঙ্খল হোস্টেল ব্যবস্থা এবং পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করা জরুরি।” তাঁর অভিযোগ, বিগত ৩৫ বছরের বাম সরকারের আমলে শিক্ষা ব্যবস্থায় সেই আধুনিকীকরণ বাস্তবে রূপ পায়নি, যার সুফল পাওয়ার কথা ছিল কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের।
পরিদর্শনকালে জানা যায়, ছাত্রদের জন্য ১০০ শয্যা ও ছাত্রীর জন্য ১০০ শয্যা বিশিষ্ট দুটি অত্যাধুনিক হোস্টেল নির্মাণের বরাদ্দ ইতিমধ্যেই হয়েছে এবং কাজও চলছে। মন্ত্রীর কথায়, “শিক্ষার পরিবেশ অনুকূল না হলে মনোযোগ নষ্ট হয়। মনোযোগ হারালে স্বপ্ন ভেঙে যায়। তাই অবকাঠামো উন্নয়ন এখন অগ্রাধিকার।”শুধু নির্মাণ কাজ পর্যবেক্ষণেই সীমাবদ্ধ থাকেননি তিনি। হোস্টেলের খাবারের মান যাচাই করতে ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে একই সারিতে দাঁড়িয়ে সকালের ডাল-ভাত-সবজি গ্রহণ করেন। উপস্থিতদের মতে, সেই মুহূর্তে তিনি মন্ত্রী নন—বরং সহপাঠীর মতো করেই কথা বলতে বলতে খাবার সেরেছেন।
খাদ্য বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি জানান, সিপিআই(এম) আমলে হোস্টেল পড়ুয়াদের প্রতিদিনের খাবারের বরাদ্দ ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকার মধ্যে। বর্তমানে বিজেপি সরকারের সময় তা ধাপে ধাপে বেড়ে ১০০ টাকায় পৌঁছেছে। তাঁর দাবি, “জনজাতি ছেলে-মেয়েরা শিক্ষিত হলে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হবে—এই সচেতনতা অতীতে অনেকেই চাননি।”তবে রাজনৈতিক বক্তব্যের মাঝেও এক বার্তা স্পষ্ট করে দেন মন্ত্রী—“শিক্ষার মধ্যে কোনও রাজনৈতিক ভেদাভেদ নয়, শিক্ষা হোক সকলের জন্য।”দামছড়ার এই রবিবার সকালের দৃশ্য তাই কেবল প্রশাসনিক পরিদর্শন নয়, বরং শিক্ষা-পরিকাঠামো ও পুষ্টি—এই দুই স্তম্ভে ভর করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতির পুনরুচ্চারণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষক মহল।

