নয়াদিল্লি/ঢাকা, ১৫ ফেব্রুয়ারি: বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করবেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য এই অনুষ্ঠানে তিনি যোগ দেবেন বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে বিদেশ মন্ত্রক।
বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে স্পিকারের অংশগ্রহণ ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের প্রতিফলন। পাশাপাশি, দুই দেশের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি ভারতের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করবে।
বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিপুল জয় অর্জন করেছে। এমইএ জানিয়েছে, “ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে আবদ্ধ প্রতিবেশী হিসেবে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরকে ভারত স্বাগত জানায়।”
আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে নির্বাচিত সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ.এম.এম. নাসির উদ্দিন। ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনের নির্দিষ্ট শপথকক্ষে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গিয়েছে। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মৌলা জানিয়েছেন, শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন। ৩০০টির মধ্যে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। নির্বাচন কমিশন ২৯৭টি আসনের অনানুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করেছে। তবে হাইকোর্টের নির্দেশে চট্টগ্রাম-২ ও চট্টগ্রাম-৪ কেন্দ্রের গেজেট বিজ্ঞপ্তি এখনও প্রকাশিত হয়নি।
ঘোষিত ফল অনুযায়ী, বিএনপি ২৯৭টির মধ্যে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করেছে। সংশ্লিষ্ট দুই কেন্দ্রেও তাদের প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। তাদের মিত্ররা পেয়েছে তিনটি আসন। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামি জিতেছে ৬৮টি আসন এবং জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট পেয়েছে ৯টি আসন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি আসনে জয়ী হয়েছে, আর নির্দল প্রার্থীরা জিতেছেন সাতটি কেন্দ্রে— এমনটাই জানিয়েছে বাংলাদেশী সংবাদ মাধ্যম।
প্রায় ৩৫ বছর পর বাংলাদেশে কোনও পুরুষ প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা ও উগ্রপন্থার উত্থান মোকাবিলা করা, যা অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনামলে প্রকট হয়ে উঠেছিল।

