হোলি উপলক্ষে চার জোড়া বিশেষ ট্রেন চালাবে নর্থইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ে

গুয়াহাটি, ১৫ ফেব্রুয়ারি: হোলির ভিড় সামাল দিতে চার জোড়া বিশেষ ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে (এনএফআর)। রবিবার গুয়াহাটিতে রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উৎসবের সময় যাত্রীদের সুবিধার্থে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এনএফআরের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক (সিপিআরও) কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানান, চলতি বছরে ভারতীয় রেলপথ সারা দেশে মোট ১,৫০০টি বিশেষ ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা করেছে, যাতে প্রধান রুটগুলিতে যাতায়াত আরও মসৃণ ও আরামদায়ক হয়। তাঁর কথায়, উৎসবের অতিরিক্ত চাহিদা মেটাতে রেলের এই আগাম পরিকল্পনা যাত্রীদের জন্য নির্ভরযোগ্য ভ্রমণ পরিষেবা নিশ্চিত করবে।

হোলির সময় বাড়তি যাত্রীচাপ সামলাতে আপাতত চার জোড়া বিশেষ ট্রেন চালানো হবে। প্রয়োজনে আগামী দিনে আরও ট্রেন ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বিশেষ ট্রেনগুলি চলবে নারেঙ্গি-গোরখপুর-নারেঙ্গি, কাটিহার-অমৃতসর-কাটিহার, ডিব্রুগড়-ঝাঁঝরপুর-ডিব্রুগড় এবং ডিব্রুগড়-কলকাতা-ডিব্রুগড় রুটে। একাধিক ট্রিপে এই ট্রেনগুলি ১৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত পরিষেবা দেবে।

রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, নিয়মিত ট্রেনগুলির ওপর চাপ কমানো এবং গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যগুলিকে সংযুক্ত করাই এই বিশেষ পরিষেবার লক্ষ্য, যাতে যাত্রীরা নিরাপদ ও সময়মতো নিজেদের পরিবারের সঙ্গে রঙের উৎসব উদ্‌যাপন করতে পারেন।

ট্রেনগুলির স্টপেজ ও সময়সূচির বিস্তারিত তথ্য আইআরসিটিসি-র ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। পাশাপাশি এনএফআরের বিভিন্ন সংবাদপত্র ও সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মেও জানানো হচ্ছে। যাত্রীদের যাত্রার আগে তথ্য যাচাই করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গুয়াহাটির মালিগাঁওয়ে সদর দফতর থাকা এনএফআর উত্তর-পূর্বের আটটি রাজ্যের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের সাতটি জেলা ও উত্তর বিহারের পাঁচটি জেলায় পরিষেবা পরিচালনা করে।

এদিকে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা অসমের গোহপুর ও নুমালিগড়ের মধ্যে ১৫.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ টুইন-টিউব সুড়ঙ্গ নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে। রেল আধিকারিকদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ২৪০ কিলোমিটার পথ কমে ৩৪ কিলোমিটারে নেমে আসবে এবং যাত্রাসময় ছয় ঘণ্টা থেকে কমে মাত্র ২০ মিনিট হবে, ফলে আঞ্চলিক যোগাযোগ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন আরও জোরদার হবে।

Leave a Reply