মিউনিখ, ১৫ ফেব্রুয়ারি : রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে আমেরিকার ধারাবাহিক মন্তব্যের প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করলেন বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর। তিনি জানিয়েছেন, ভারত তার “কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন”-এ অটল এবং জ্বালানি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে প্রাপ্যতা, মূল্য ও ঝুঁকির নিরিখেই।
শনিবার মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন-এ বক্তব্য রাখতে গিয়ে জয়শঙ্কর মার্কিন দাবির জবাব দেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার জ্বালানি খাতে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দাবি করেন, ভারত নাকি অতিরিক্ত রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানি বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে।
সম্মেলনে রুবিও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ভারত অতিরিক্ত রুশ তেল না কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর আগে ট্রাম্পও দাবি করেছিলেন, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করে আমেরিকা থেকে বেশি তেল কিনতে রাজি হয়েছে।
তবে জয়শঙ্কর স্পষ্ট ভাষায় জানান, ভারতের পররাষ্ট্রনীতি স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে। তাঁর কথায়, “কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন আমাদের ইতিহাস ও বিকাশের অংশ। এটি গভীরভাবে প্রোথিত এবং রাজনৈতিক পরিসরের সব স্তরেই সমর্থিত।”
জ্বালানি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক তেলের বাজার অত্যন্ত জটিল। ভারতের তেল সংস্থাগুলি যেমন ইউরোপ বা বিশ্বের অন্যান্য দেশের সংস্থাগুলি করে থাকে, তেমনই প্রাপ্যতা, খরচ ও ঝুঁকি বিবেচনা করেই নিজেদের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নেয়।
সরাসরি প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আপনার প্রশ্নের সারমর্ম যদি হয়—আমি কি স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেব এবং এমন সিদ্ধান্ত নেব যা হয়তো আপনার ভাবনার সঙ্গে নাও মিলতে পারে?—হ্যাঁ, তা হতে পারে।”
তবে অতিরিক্ত রুশ তেল আমদানি বন্ধের বিষয়ে ওয়াশিংটনের দাবি নিয়ে ভারত সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত বা অস্বীকার কোনওটাই করেনি।

