নয়াদিল্লি, ১৫ ফেব্রুয়ারি: কনসোর্টিয়াম-নির্ভর উদ্ভাবন মডেল গবেষণার দ্রুত ও কার্যকর বাণিজ্যিকীকরণে বড় ভূমিকা নিচ্ছে বলে মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। রবিবার ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি মাদ্রাজ-এর অধীন আইআইটি মাদ্রাজ রিসার্চ পার্ক এবং ইমার্সিভ টেকনোলজি অ্যান্ড এন্টারপ্রেনারশিপ ল্যাবস ফাউন্ডেশন-সহ একাধিক আধুনিক গবেষণা কেন্দ্র পরিদর্শনকালে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী জানান, আইআইটি মাদ্রাজ রিসার্চ পার্কের পথপ্রদর্শক কনসোর্টিয়াম মডেল ইতিমধ্যেই দেশের অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয় গ্রহণ করতে শুরু করেছে। তাঁর কথায়, “এই মডেল এখন অন্যান্য একাডেমিক প্রতিষ্ঠানও আগ্রহের সঙ্গে অনুসরণ করছে।”
পরিদর্শনকালে নগর পরিবহণ, মহাকাশ প্রযুক্তি, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং মস্তিষ্কবিজ্ঞান সংক্রান্ত চলমান প্রকল্পগুলির অগ্রগতি খতিয়ে দেখেন তিনি। ড. সিং বলেন, “গবেষণা ও উন্নয়নের প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিল্প সংস্থাগুলিকে যুক্ত করার ফলে উদ্ভাবন বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।”
তিনি আরও জানান, এই সমন্বিত মডেল গবেষণার ফলাফলকে দ্রুত ব্যবহারযোগ্য ও বাজারজাতযোগ্য সমাধানে রূপান্তর করতে সাহায্য করছে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে প্রতিষ্ঠিত আইটিইএল ফাউন্ডেশন, যা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দফতরের স্বীকৃত একটি অলাভজনক সংস্থা, ভারতের গভীর প্রযুক্তি (ডিপ-টেক) উদ্ভাবনকে বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে দ্রুত স্থানান্তরের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। একাডেমিক প্রতিষ্ঠান, শিল্প সংস্থা ও বিনিয়োগকারীদের একত্রিত করে প্রযুক্তি উন্নয়নের এই উদ্যোগ দেশকে বৈশ্বিক প্রযুক্তি নেতার আসনে বসানোর লক্ষ্য নিয়েছে।
পরিদর্শনের সময় ‘হ্যাশটিক’ মোবিলিটি উদ্যোগের প্রদর্শনীও দেখেন মন্ত্রী। এই প্রকল্পের লক্ষ্য ভারতীয় শহরগুলির যানজট সমস্যা সমাধান করা। প্রস্তাব অনুযায়ী, বিদ্যমান রাস্তার ওপর উঁচু ট্র্যাকে এআই-সক্ষম ছোট বৈদ্যুতিক যান চলবে, যাতে ১৫ কিলোমিটার পথ প্রায় ২০ মিনিটে অতিক্রম করা সম্ভব হয়।
এছাড়া, আইআইটি মাদ্রাজ ইকোসিস্টেমে ইনকিউবেট হওয়া বেসরকারি মহাকাশ স্টার্টআপ অগ্নিকুল কসমস-এর কাজও পর্যালোচনা করেন ড. সিং। সংস্থাটি নমনীয় ও চাহিদাভিত্তিক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের জন্য উৎক্ষেপণযান তৈরি করছে। ২০২৪ সালের মে মাসে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা এবং ইন-স্পেস-এর সহায়তায় তারা প্রথম মিশন সফলভাবে সম্পন্ন করে।
চলতি বছরের শেষের দিকে পুনঃব্যবহারযোগ্য রকেটের বাণিজ্যিক উৎক্ষেপণের প্রস্তুতিও নিচ্ছে সংস্থাটি। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ভারতের মহাকাশ ক্ষেত্রে বেসরকারি সংস্থার ক্রমবর্ধমান ভূমিকারই প্রতিফলন।

