হোস্টেল পড়ুয়াদের হাতে মোবাইল না দেওয়ার আবেদন জনজাতি কল্যাণ মন্ত্রীর, পাচারচক্র নিয়ে সতর্কবার্তা

আগরতলা, ১৪ ফেব্রুয়ারী: হোস্টেলে থাকা ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে মোবাইল ফোন না দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের কাছে জোরালো আবেদন জানালেন জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। শনিবার দশদা-কাঞ্চনপুরের দক্ষিণ তুইসামা এলাকায় অবস্থিত পূর্ণজয় সিপি হাই স্কুল-এর ছাত্র ও ছাত্রী নিবাস পরিদর্শনে এসে তিনি এই আহ্বান জানান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন এমডিসি ভূমিকা নন্দ রিয়াং।

সম্প্রতি ওই বিদ্যালয়ের গার্লস হোস্টেল থেকে তিন ছাত্রী এবং বাইরে থেকে আসা দুই নাবালিকা মেয়ে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে গড়ে ওঠা যোগাযোগের জেরে হোস্টেল ছেড়ে বেরিয়ে যায়। পরে বিমানবন্দর থানা-র তৎপরতায় পাঁচ নাবালিকাকেই উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, তাদের ভিনরাজ্যে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। ঘটনাকে ঘিরে গোটা এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।

শনিবার হোস্টেল পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রী আবাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের ভূমিকা এবং কীভাবে ছাত্রীদের বাইরে বেরিয়ে যাওয়া সম্ভব হল, তা খতিয়ে দেখেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একটি সংগঠিত চক্র সক্রিয় রয়েছে। মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নাবালিকাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে বন্ধুত্ব ও প্রলোভনের ফাঁদে ফেলে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। এই ঘটনার পিছনেও সেই ধরনের চক্র কাজ করেছে বলে আশঙ্কা।

মন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, বিশেষ করে হোস্টেলে থাকা পড়ুয়াদের হাতে মোবাইল ফোন তুলে দেওয়ার আগে অভিভাবকদের একাধিকবার ভাবা উচিত। তাঁর কথায়, পড়াশোনার পরিবেশ ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে অভিভাবকদের সচেতন হওয়া জরুরি। অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ব্যবহার অনেক সময় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তিনি আরও জানান, সংশ্লিষ্ট চক্রকে চিহ্নিত করতে পুলিশ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে এবং তদন্ত এগোচ্ছে। পাশাপাশি হোস্টেলগুলির নিরাপত্তা জোরদার করা ও নজরদারি বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

ঘটনার পর অভিভাবক মহলে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা ও দ্রুত উদ্ধার অভিযানে এলাকায় খানিকটা স্বস্তি ফিরেছে। এখন নজর পাচারচক্রের মূল হোতাদের গ্রেফতার এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা রুখতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, তার দিকে।

Leave a Reply