পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর শুনানি শেষ, চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ যেতে পারে আরও ৪.৯৮ লক্ষ নাম

কলকাতা, ১৪ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস): পশ্চিমবঙ্গে খসড়া ভোটার তালিকা নিয়ে দাবি-আপত্তির শুনানি পর্ব শনিবার সন্ধ্যায় শেষ হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার উপযুক্ত হিসেবে আরও ৪.৯৮ লক্ষ ভোটারের নাম চিহ্নিত হয়েছে।

জানা গেছে, বারবার নোটিস দেওয়া সত্ত্বেও যেসব ভোটার শুনানিতে উপস্থিত হননি, তাঁদেরই এই তালিকায় রাখা হয়েছে এবং তাঁদের চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার যোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এমন অনুপস্থিত ভোটারের সংখ্যা ছিল প্রায় ৬.২৫ লক্ষ। তবে শেষ দিনে এক লক্ষের বেশি ভোটার শুনানিতে উপস্থিত হওয়ায় সংখ্যাটি কমে ৪.৯৮ লক্ষে নেমে আসে বলে রাজ্যের প্রধান নির্বাচন আধিকারিকের দপ্তরের একটি সূত্র জানিয়েছে।

এর আগে গণনা বা এনিউমারেশন পর্বে মৃত, পুনরাবৃত্ত বা স্থানান্তরিত ভোটারসহ ৫৮ লক্ষের বেশি নাম অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়ে গত ডিসেম্বর প্রকাশিত খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়ে। শুনানি পর্বে চিহ্নিত নতুন ৪.৯৮ লক্ষ নাম সেই সংখ্যার সঙ্গে যুক্ত হবে।

তবে চূড়ান্তভাবে কত নাম বাদ পড়বে তা স্পষ্ট হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা দেখেই। শুনানিতে উপস্থিত ভোটারদের জমা দেওয়া পরিচয়পত্র যাচাই প্রক্রিয়া ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। এই যাচাইয়ে অকার্যকর বা যাচাই-অযোগ্য নথি জমা দিলে তাঁদের নামও বাদ যেতে পারে বলে সূত্রের দাবি।

জেলা ভিত্তিক হিসাবে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি অনুপস্থিত ভোটার পাওয়া গেছে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় প্রায় ১.৩৮ লক্ষ। এরপর রয়েছে দক্ষিন ২৪ পরগনা (প্রায় ৪৬ হাজার) এবং কলকাতা দক্ষিণ লোকসভা জেলা (প্রায় ২২ হাজার)। সবচেয়ে কম অনুপস্থিত ভোটার পাওয়া গেছে কালিমপং জেলায় মাত্র ৪৪০ জন।

২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পরদিনই পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চসহ নির্বাচন কমিশন রাজ্যে দুই দিনের সফরে আসবে বলে জানা গেছে। সফর শেষে চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনের সূচি ঘোষণা করা হতে পারে।

রাজ্যের প্রধান নির্বাচন আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল ইতিমধ্যেই কমিশনকে এক দফায় নির্বাচন করার সুপারিশ করেছেন। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচন কমিশনই।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে পশ্চিমবঙ্গে সাধারণত সাত থেকে আট দফায় ভোটগ্রহণ হয়েছে। এক দফায় শেষবার বিধানসভা নির্বাচন হয়েছিল ২০০১ সালে।

Leave a Reply