নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা, ১৪ ফেব্রুয়ারি: আজ থেকে আগরতলার শিশু উদ্যানে শুরু হয়েছে আদি মহোৎসব। আজ সন্ধ্যায় ৮ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা) মানিক সাহা। উৎসব চলবে আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। কেন্দ্রীয় জনজাতি বিষয়ক মন্ত্রকের অধীনে ট্রাইপেড (ট্রাইবেল কো-অপারেটিভ মার্কেটিং ডেভেলাপমেন্ট ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া লিমিটেড) এবং রাজ্য সরকারের জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের সহায়তায় এই উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠান উদ্বোধন করে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশের জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষের সামাজিক, সাংস্কৃতিক অর্থনৈতিক বিকাশে কাজ চলছে। এর আগে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী ব্যতীত অন্য কোন প্রধানমন্ত্রীই দেশের জনজাতি সম্প্রদায়ের বিকাশে কোন ধরনের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতবর্ষ হল বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের ভূমি। এখানকার মানুষের ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি ভিন্ন হলেও মনের দিক দিয়ে সকলেই ভারতীয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রথম থেকেই দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলের বিকাশে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে আসছেন। তিনি প্রায়শই বলেন উত্তর পূর্বাঞ্চলের সঠিক বিকাশ না হলে দেশের সার্বিক উন্নতি সম্ভব নয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ট্রাইফেড দেশব্যাপী জনজাতি শিল্পীদের উৎপাদিত সামগ্রীর ট্রাইবস্ ইন্ডিয়া আউটলেট, আদি মহোৎসব, আদি বাজার ইত্যাদি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বাজারজাতকরনে সহায়তা করে। তিনি বলেন, মাইনর ফরেস্ট প্রডিউস-এর এমএসপি স্কীমে জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষের আয় সুনিশ্চিত করার কাজ করা হচ্ছে। এই স্কীমে রাজ্য সরকার জঙ্গলের বিভিন্ন আহরীত সামগ্রী জনজাতি সম্প্রদায়ের মানুষের কাছ থেকে এমএসপি’তে ক্রয় করতে পারেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই স্কীমে উত্তর পূর্বাঞ্চলে ৮৭টি এমএফপি’কে সহায়তায় ৬ কোটি ২২ লক্ষ টাকার রিভলভিং ফান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। বিভিন্ন হাট/বাজারের উন্নয়ন এবং স্টোরেজ ব্যবস্থা প্রচলনের জন্য ২০ কোটি ১৩ লক্ষ টাকা মঞ্জুর করা হয়েছে। এরমধ্যে ত্রিপুরা রাজ্যের জন্য এমএফপি’তে ২ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে ১ কোটি ১৪ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। বনধন বিকাশ যোজনায় প্রায় ১৫-২০টি বনধন বিকাশ কেন্দ্র গঠন করা হয়েছে। এতে প্রায় ৩০০ জন জনজাতি যুবক যুবতী যুক্ত রয়েছেন। প্রত্যেকটি বনধন বিকাশ কেন্দ্রের জনা ১৫ লক্ষ টাকা প্রদান করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনজাতী বিকাশ মিশন এবং প্রধানমন্ত্রী জনজাতি আদিবাসী ন্যায় মহা অভিযানে উত্তর পূর্বাঞ্চলে ১৭৪৯টি বনধন বিকাশ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য ২১৬ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এরফলে এই অঞ্চলের ৫ লক্ষের বেশি জনজাতি মানুষ উপকৃত হবেন। এরমধ্যে রাজ্যে ৮৭টি বনধন বিকাশ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন মিলেছে।
উল্লেখ্য, এই আদি মহোৎসবে ত্রিপুরা রাজ্য ব্যতীত অরুনাচল প্রদেশ, আসাম, মেঘালয়, মনিপুর, মিজোরাম, নাগাল্যান্ড, পশ্চিমবঙ্গ, ঝারখন্ড, উড়িষ্যা, হিমাচল প্রদেশ প্রভৃতি রাজ্যের জনজাতি শিল্পীদের উৎপাদিত সামগ্রীর ৫০টি স্টল রয়েছে।
অনুষ্ঠানে আলোচনায় সমবায়মন্ত্রী শুক্লাচরণ নোয়াতিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রী লোকাল ফর ভোকাল-এর ডাক দিয়েছেন। যাতে স্থানীয় শিল্পের উন্নয়ন হয়। আদি বাজার, আদি মহোৎসবের মত কর্মসূচি এই ভাবধারাকেই সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। তিনি বলেন রাজ্য সরকার ল্যাম্পস, প্যাকস্, মার্কেটিং সোসাইটির সামগ্রিক বিকাশেও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ট্রাইপেডের এমডিএম রাজা মুরুগান। তিনি তার বক্তব্যে ট্রাইপেডের দেশব্যাপী কার্যকলাপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন মার্কফেড-এর চেয়ারম্যান অভিজিৎ দেব, জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের সচিব কে, শশী কুমার।

