ঢাকা, ১২ ফেব্রুয়ারি : অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রাথমিক গণনায় বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ শেষে শুরু হওয়া গণনায় দেখা যাচ্ছে, বিএনপি ১৭৫টির বেশি আসনে এগিয়ে, যেখানে তাদের একসময়ের জোটসঙ্গী জামায়াতে ইসলামী এগিয়ে রয়েছে প্রায় ৩০টি আসনে।
এখন পর্যন্ত ঘোষিত ২১টি আসনের চূড়ান্ত ফলে বিএনপি জয় পেয়েছে ১৯টিতে এবং জামায়াতে ইসলামী জিতেছে ২টি আসনে।
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসনে জয় নিশ্চিত করেছেন। সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, সারাদেশে বিএনপির প্রার্থীরা ১৭৫টিরও বেশি আসনে এগিয়ে রয়েছেন।
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ ‘জাতীয় সংসদ’-এ মোট ৩০০টি আসন রয়েছে। ২৯৯টি আসনে আজ ভোট হয়েছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৫১টি আসনে সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতা।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী প্রশাসনের অধীনে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বর্তমানে ভোট গণনা চলছে।
এদিন জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি জাতীয় গণভোটও অনুষ্ঠিত হয়। ভোটাররা দুটি পৃথক ব্যালটে ভোট দেন সাদা ব্যালটে জাতীয় নির্বাচনের জন্য এবং গোলাপি ব্যালটে ‘জাতীয় গণসনদ’ গ্রহণের বিষয়ে মতামত জানান।
‘জুলাই সনদ’-এ সুশাসন, গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে কর্তৃত্ববাদী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি রোধের কথাও এতে উল্লেখ রয়েছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেছেন, গণভোটের ব্যালট ও ডাকযোগে দেওয়া ভোট গণনার কারণে চূড়ান্ত ফল প্রকাশে কিছুটা সময় লাগতে পারে। তবে ফলাফল নিয়ে কোনো ধরনের কারচুপি বা অনিয়মের সুযোগ নেই বলেও তিনি জোর দিয়ে জানান।
বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় নির্বাচন কমিশনের ফলাফল কেন্দ্রে আয়োজিত এক আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে সিইসি বলেন, দেশের মানুষের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, নির্বাচন কমিশন একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি এদিনের সাধারণ নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসে অন্যতম সেরা, সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য এবং উৎসবমুখর নির্বাচন হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, কিছু সীমাবদ্ধতা ও ঘাটতি থাকা সত্ত্বেও সামগ্রিকভাবে উচ্চমান বজায় রেখেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ফলাফল প্রকাশ প্রসঙ্গে সিইসি স্পষ্টভাবে বলেন, কোনো অনানুষ্ঠানিক বা যাচাইবিহীন ফলাফল নির্বাচন কমিশন গ্রহণ করবে না। কেবলমাত্র রিটার্নিং কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরিত এবং আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাপ্ত ফলই প্রকাশ করা হবে।
নাসির উদ্দিন আরও জানান, নির্বাচন কমিশন কোনো ধরনের গোপনীয়তায় বিশ্বাস করে না। পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ফলাফল সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেশের মানুষের সামনে উপস্থাপন করা হবে।
অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবারের নির্বাচন যে কোনো মানদণ্ডে আরও বেশি গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবে বলেও তিনি দাবি করেন।

