ঢাকা, ১২ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ‘প্রহসন’, ‘অবৈধ’ ও ‘অসাংবিধানিক’ বলে আখ্যা দিলেন দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনকে তিনি ‘ভোটারবিহীন’ বলে দাবি করেন এবং ভোট বর্জনের মাধ্যমে নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করায় নারী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ সাধারণ নাগরিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে আক্রমণ করে শেখ হাসিনা অভিযোগ করেন, অবৈধ ও অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা দখলকারী প্রশাসন সুপরিকল্পিতভাবে একটি প্রহসনের আয়োজন করেছে। আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে অনুষ্ঠিত এই প্রতারণামূলক নির্বাচনে জনগণের ভোটাধিকার, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সংবিধানের চেতনাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
আওয়ামী লীগের সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ পোস্ট করা বিবৃতিতে শেখ হাসিনা বলেন, ১১ ফেব্রুয়ারির সন্ধ্যা থেকেই কেন্দ্র দখল, গুলিবর্ষণ, ভোট কেনাবেচা, টাকা বিতরণ, ব্যালটে সিল মারা এবং এজেন্টদের দিয়ে ফলাফলের শিটে স্বাক্ষর করানোর মাধ্যমে এই প্রহসন শুরু হয়। ১২ ফেব্রুয়ারির সকাল নাগাদ সারা দেশের অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি ছিল নগণ্য, আর রাজধানীসহ বহু এলাকায় অনেক কেন্দ্রে কোনও ভোটারই ছিল না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী ভোটগ্রহণ শুরুর সাড়ে তিন ঘণ্টা পর, সকাল ১১টা পর্যন্ত মাত্র ১৪.৯৬ শতাংশ ভোট পড়েছে। এই অত্যন্ত কম উপস্থিতিই প্রমাণ করে যে আওয়ামী লীগবিহীন নির্বাচন জনগণ প্রত্যাখ্যান করেছে, দাবি তাঁর।
নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের ভোটার, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর ধারাবাহিক হামলা, গ্রেফতার, ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও তোলেন শেখ হাসিনা। তাঁর বক্তব্য, হুমকি ও হয়রানি সত্ত্বেও জনগণ এই ভুয়ো নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছে এবং অধিকাংশ কেন্দ্র কার্যত ফাঁকা ছিল। ভোটার তালিকায়, বিশেষত ঢাকায়, অস্বাভাবিকভাবে ভোটার সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। এটি অত্যন্ত সন্দেহজনক বলে মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এই ভোটারবিহীন, অবৈধ ও অসাংবিধানিক নির্বাচন বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনুসের পদত্যাগ, শিক্ষক-সাংবাদিক- বুদ্ধিজীবীসহ সব রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি তোলা হয়েছে। দলটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে।

