ইসলামাবাদ, ১২ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : পাকিস্তানে অবৈধ বিদেশিদের বিরুদ্ধে অভিযান আরও জোরদার করেছে পুলিশ। রাওয়ালপিন্ডির একটি হোল্ডিং সেন্টারে ৫,৪৩৯ জন অবৈধ আফগান নাগরিককে আটক রাখা হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা গেছে।
গত বছরের ৩১ মার্চের মধ্যে স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার সরকারি সময়সীমা শেষ হওয়ার পর থেকে ওই কেন্দ্র থেকে ১৯ জন নিখোঁজ থাকার খবরও পাওয়া গেছে। দেশের শীর্ষ দৈনিক ডন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেডারেল রাজধানী অঞ্চলে নথিপত্রবিহীন অভিবাসীদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালাতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য অবৈধ আফগান নাগরিকদের গ্রেপ্তার করা।
পুলিশকে প্রতিদিন অবৈধ আফগান নাগরিক, বেআইনি ভাড়াটিয়া, হোটেল ও ট্রাভেল সংক্রান্ত অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট নথিভুক্তিকরণে গাফিলতি হলে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে পুলিশ কর্মকর্তাদের।
রাওয়ালপিন্ডিতে টেন্যান্সি আইনের লঙ্ঘনের বিরুদ্ধেও পৃথক অভিযান শুরু হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চোনত্রা, চাকরি, কাহুটা, নাসিরাবাদ, চাকলালা, জাতলি, সদর বারুনি ও কল্লার সাইদান-সহ একাধিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৩৮ জনকে আটক করা হয়েছে।
সিপিও সাইয়েদ খালিদ মাহমুদ হামদানির নির্দেশে প্রতিদিন তল্লাশি অভিযান চালিয়ে টেন্যান্সি আইন কার্যকর করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে বাড়িওয়ালাদের ভাড়াটিয়াদের তথ্য এবং কর্মচারীদের বিবরণ সংশ্লিষ্ট থানায় নিবন্ধনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে গত মাসে কাবুলের তালিবান প্রশাসন অভিযোগ করেছে, পাকিস্তানে বসবাসকারী আফগান শরণার্থীদের সমস্যার পরিমাণ বাড়ছে। গ্রেপ্তার, হয়রানি ও দুর্ব্যবহারের ঘটনা বেড়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাজওয়াক আফগান নিউজের উদ্ধৃতি দিয়ে তালিবান সরকারের উপ-মুখপাত্র হামদুল্লাহ ফিতরাত এক অডিও বার্তায় বলেন, পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের আচরণের ফলে আফগান শরণার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
তিনি জাতিসংঘ ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলিকে শরণার্থী সুরক্ষা নীতিমালা বজায় রাখার আহ্বান জানান এবং যেখানে শরণার্থী অধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে সেখানে হস্তক্ষেপ করার দাবি তোলেন। আফগানিস্তানে ফিরে যাওয়া শরণার্থীদের জন্য আর্থিক সহযোগিতা ও পুনর্বাসন সহায়তারও প্রয়োজন রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত এক বছরে দেশজুড়ে অভিযানের অংশ হিসেবে পাকিস্তান হাজার হাজার আফগান অভিবাসীকে প্রত্যাবাসন করেছে। এই অভিযানে সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরাও প্রভাবিত হয়েছেন বলে বিভিন্ন মহলের দাবি।

