আইজল, ১১ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : মিজোরামে আসাম রাইফেলস ও রাজ্য পুলিশের যৌথ অভিযানে প্রায় ৩.৫ কোটি টাকা মূল্যের ৩.৫১৮ কেজি মরফিন উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় দুই মাদক পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে বুধবার নিরাপত্তা বাহিনী সূত্রে জানানো হয়েছে।
এক নিরাপত্তা বাহিনী মুখপাত্র জানান, সাইতুয়াল জেলার অন্তর্গত এনগোপা এলাকায় মাদক পাচারের সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে আসাম রাইফেলস, রাজ্য পুলিশ এবং সাবসিডিয়ারি ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (এসআইবি) যৌথভাবে অভিযান চালায়।
অভিযান চলাকালীন নিরাপত্তা বাহিনী একটি গাড়ি আটক করে তল্লাশি চালিয়ে ৩.৫১৮ কেজি মরফিন উদ্ধার করে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩.৫ কোটি টাকা। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্যটি কাসিম ও মুকিম আলি নামে দুই ব্যক্তি পাচার করছিলেন। ধৃত দুই ব্যক্তিকে উদ্ধারকৃত মাদক এবং ব্যবহৃত গাড়িসহ পরবর্তী তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপের জন্য পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সাফল্য মিজোরামে চোরাচালান ও মাদকবিরোধী লড়াইয়ে আসাম রাইফেলসের অটল অঙ্গীকারেরই প্রমাণ।
উল্লেখ্য, মিজোরামের সঙ্গে মিয়ানমারের ৫১০ কিলোমিটার দীর্ঘ অরক্ষিত আন্তর্জাতিক সীমান্ত এবং বাংলাদেশের সঙ্গে ৩১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ দুর্গম পাহাড়ি সীমান্ত রয়েছে, যা আন্তঃসীমান্ত চোরাচালানের ঝুঁকি বাড়ায়। মিয়ানমারের চিন রাজ্য মাদক, বিদেশি পণ্য, বন্যপ্রাণী, মিয়ানমারের সুপারি সহ বিভিন্ন চোরাই পণ্যের পাচারের অন্যতম কেন্দ্র। চামফাই, সিয়াহা, লাংতলাই, হ্নাথিয়াল, সাইতুয়াল এবং সারচিপ, এই ছয়টি জেলার মাধ্যমে এসব পাচার কার্যক্রম সংঘটিত হয়।
মিয়ানমার ভারতের অরুণাচল প্রদেশ, মণিপুর, নাগাল্যান্ড ও মিজোরাম এই চার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের সঙ্গে ১,৬৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ অরক্ষিত সীমান্ত ভাগ করে নিয়েছে। ফলে হেরোইন ও মেথামফেটামিন ট্যাবলেটসহ বিভিন্ন মাদক ভারতে প্রবেশের ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রানজিট পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালদুহোমা একাধিকবার যুবসমাজসহ সকল স্তরের মানুষকে মাদক থেকে দূরে থাকার এবং মাদকবিরোধী লড়াইয়ে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
গত বছর সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত চার মাসব্যাপী বিশেষ অভিযান চালায় মিজোরাম সরকার, যার লক্ষ্য ছিল রাজ্যের বাইরে, বিশেষত মিয়ানমার থেকে মাদক পাচার রোধ করা। রাজ্য পুলিশ, আবগারি ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ দপ্তর এবং বৃহত্তম সামাজিক সংগঠন ইয়ং মিজো অ্যাসোসিয়েশন (ওয়াইএমএ)-এর সমন্বয়ে ওই অভিযান পরিচালিত হয় এবং পাশাপাশি সচেতনতামূলক কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়।

