তিরুবনন্তপুরম, ১২ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : কেন্দ্রের চারটি নতুন শ্রম কোড ও সংশ্লিষ্ট আইন বাতিলের দাবিতে ডাকা ২৪ ঘণ্টার দেশব্যাপী ‘ভারত বনধ’-এর জেরে বৃহস্পতিবার কার্যত অচল হয়ে পড়েছে কেরল। রাজ্যজুড়ে দোকানপাট, বাজার, অফিস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় জনজীবন ও জীবিকায় ব্যাপক প্রভাব পড়ে।
ভোর থেকেই বনধের প্রভাব স্পষ্ট হয়। সরকারি ও বেসরকারি বাস রাস্তায় নামেনি, অটোরিকশা ও ট্যাক্সি চলাচল বন্ধ ছিল। অধিকাংশ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান শাটার নামিয়ে দেয়। গণপরিবহন ব্যবস্থা স্তব্ধ থাকায় দূরপাল্লার ট্রেন ও আন্তঃরাজ্য বাসে আগত শতাধিক যাত্রী রেলস্টেশন ও বাস টার্মিনালে আটকে পড়েন। গন্তব্যে পৌঁছাতে তাঁদের অনেকেই বেসরকারি গাড়ির খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরতে দেখা যায়। এই বনধের সরাসরি প্রভাব পড়ে দৈনিক মজুরিভিত্তিক শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ফুটপাতের হকারদের ওপর। তাঁদের অনেকেই একদিনের সম্পূর্ণ রোজগার হারান।
আয়োজকরা নির্বাচনের প্রাক্কালে জোরপূর্বক বনধ কার্যকর না করে পথের ধারের ব্যবসায়ীদের স্বেচ্ছায় দোকান বন্ধ রাখার অনুরোধ জানান। ফলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ন্যূনতম পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকে। কিছু এলাকায় ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করলেও যানবাহনের সংখ্যা ছিল অত্যন্ত কম।
ইসরোর বিভিন্ন ইউনিটে কর্মীদের নিয়ে যাওয়া স্টাফ বাসে পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হয় এবং কয়েকটি আইটি ক্যাম্পাসে সীমিত প্রবেশের ব্যবস্থা রাখা হয়। কেরল হাইকোর্টে স্বাভাবিক কাজকর্ম চলেছে। সবরিমালা তীর্থযাত্রী ও তিরুভাল্লার কাছে চলমান মারামন কনভেনশনের জন্য বনধ থেকে ছাড় দেওয়া হয়।
যৌথ ট্রেড ইউনিয়নগুলির ডাকা এই বনধে চারটি শ্রম কোড, খসড়া বীজ বিল, বিদ্যুৎ সংশোধনী বিল এবং প্রস্তাবিত শান্তি আইন প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি, এমজিএনআরইজিএ পুনর্বহাল এবং ‘বিকসিত ভারত-রোজগার গ্যারান্টি ও আজীবিকা মিশন আইন, ২০২৫’ বাতিলের দাবিও তোলা হয়েছে। ইউনিয়নগুলির অভিযোগ, এই পদক্ষেপগুলি শ্রমিক সুরক্ষা ও কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা ক্ষুণ্ণ করছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রতিবেশী তামিলনাড়ুতে স্বাভাবিক জনজীবন লক্ষ্য করা গেছে, যা কেরলের বনধ সংস্কৃতির স্বাতন্ত্র্যকে তুলে ধরে। শাসক বামফ্রন্ট ও বিরোধী শিবিরের প্রাক-নির্বাচনী যাত্রা নির্বিঘ্নে চলেছে। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ভি. শিবানকুট্টিকে নিজের বাসভবন থেকে হেঁটে প্রতিবাদে যোগ দিতে দেখা যায়। তবে সাধারণ কেরলবাসীর কাছে দিনটি পরিণত হয়েছে রোজগারহানি, ব্যবসা স্থবিরতা ও দৈনন্দিন রুটিনে ব্যাঘাতের দিনে পূর্ণ বনধের চেনা আর্থিক মাশুল আবারও সামনে এসেছে।

