পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ভারতের পূর্ণ সমর্থন : বিদেশ মন্ত্রক

নয়াদিল্লি, ১২ ফেব্রুয়ারি(আইএএনএস) : গাজায় শান্তি প্রতিষ্ঠা, পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক পুনরুত্থানের লক্ষ্যে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন শান্তি বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ বিবেচনা করে দেখছে ভারত। বৃহস্পতিবার বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে। আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি নবগঠিত এই শান্তি বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক সাংবাদিক সম্মেলনে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের বিষয়ে ভারতের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। গাজা শান্তি বোর্ডে ভারতের অংশগ্রহণ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা আমেরিকার পক্ষ থেকে শান্তি বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছি। বর্তমানে এই প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ভারত বরাবরই পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পক্ষে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন, যা গাজাসহ ওই অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই শান্তির পথ প্রশস্ত করবে।

চলতি মাসের ২ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে টেলিফোনে কথা বলেন। সেই সময় ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে, বিশ্বজুড়ে শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কথপোকথনের পর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ প্রধানমন্ত্রী লিখেছিলেন, বিশ্বের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্ব অত্যন্ত জরুরি। ভারত তাঁর এই শান্তি প্রচেষ্টাকে পূর্ণ সমর্থন জানায়। আমাদের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে আমি তাঁর সাথে কাজ করার অপেক্ষায় রয়েছি।

গত মাসে দাভোসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই শান্তি বোর্ডের সূচনা করেন। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো, গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। সীমান্ত পারাপারের পথ উন্মুক্ত করা। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে নিরস্ত্রীকরণ করা। গাজার পুনর্গঠন এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক উন্নয়ন শুরু করা।

এই উদ্যোগকে যুদ্ধের বদলে পুনর্গঠনের একটি বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন ট্রাম্প। গাজার ভৌগোলিক অবস্থানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, হৃদয় থেকে আমি একজন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী। যেকোনো স্থানের উন্নতি নির্ভর করে তার অবস্থানের ওপর। সমুদ্রের ধারের এই সুন্দর এলাকাটি সাধারণ মানুষের জন্য কত উন্নত হতে পারে, তা ভাবুন।

Leave a Reply