আর্সেনিক দূষণ নিয়ে বিহার বিধানসভায় উত্তপ্ত বিতর্ক, মাঝেমধ্যে হাসির রোল

পাটনা, ১২ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : পাটনা জেলার কিছু এলাকায় পানীয় জলে আর্সেনিক দূষণের অভিযোগ ঘিরে বৃহস্পতিবার বিহার বিধানসভায় তুমুল বাকবিতণ্ডা দেখা যায়। তবে উত্তপ্ত বিতর্কের মাঝেই একাধিক হালকা মুহূর্তে হাসির রোলও ওঠে বিধানসভায়।

পাটনার কাছে দানাপুর ও মানের এলাকায় দূষিত জল সরবরাহের অভিযোগ তুলে বিষয়টি উত্থাপন করেন আরজেডি বিধায়ক ভাই বীরেন্দ্র। তিনি দাবি করেন, তাঁর বিধানসভা এলাকায় আর্সেনিকযুক্ত জল সরবরাহ করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের পক্ষে মারাত্মক বিপজ্জনক। অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তিনি।

জবাবে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের (পিএইচইডি) মন্ত্রী সঞ্জয় কুমার সিং জানান, ৯ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে সংগৃহীত জলের নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গেছে, আর্সেনিকের মাত্রা নির্ধারিত সীমার মধ্যেই রয়েছে। তিনি বলেন, রাজ্য সরকার পানীয় জলের গুণমান নিয়ে সতর্ক এবং নিয়মিতভাবে নমুনা পরীক্ষা করা হয়।

তবে মন্ত্রীর বক্তব্যে সন্তুষ্ট হননি ভাই বীরেন্দ্র। তিনি অভিযোগ করেন, সদনে ভুল তথ্য পেশ করা হয়েছে। তাঁর কথায়, আমি নিজেই ওই এলাকায় থাকি। এখানে যা পড়া হয়েছে, বাস্তব পরিস্থিতি তার থেকে আলাদা। নতুন করে নমুনা পরীক্ষা এবং দূষণ প্রমাণিত হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে স্পিকার হালকা সুরে ভাই বীরেন্দ্রকে তাঁর শারীরিক সুস্থতার খোঁজ নিলে কিছুক্ষণ হাসির পরিবেশ তৈরি হয়। কিন্তু বিধায়ক ফের জোর দিয়ে বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর এবং তাৎক্ষণিক গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

পরে মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার আলোচনায় অংশ নিয়ে ভাই বীরেন্দ্রর রঙিন সোয়েটার প্রসঙ্গে রসিকতা করলে পরিবেশ কিছুটা হালকা হয়। জবাবে ভাই বীরেন্দ্র কটাক্ষ করে বলেন, আপনিই তো এটা আমাকে দিয়েছেন। আগেও দিয়েছেন। ছোট ভাইকে কিছু দিলে ভুলে যান। তাই বলি, সময়মতো ওষুধ খান, না হলে সব ভুলে যাবেন। এতে গোটা বিধানসভায় হাসির রোল পড়ে।

উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী জানান, সংশ্লিষ্ট এলাকায় প্রয়োজন হলে তদন্ত করা হবে। তিনিও হালকা সুরে মন্তব্য করেন, এখন আর তেমন ঠান্ডা নেই যে এত ভারী পোশাক পরার দরকার।

জনস্বাস্থ্য ও পানীয় জলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি সামনে এলেও, শেষ পর্যন্ত বিতর্ক কিছুটা হালকা আবহেই মেটে।

Leave a Reply