নয়াদিল্লি, ১২ ফেব্রুয়ারি : বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণের মধ্যে ভারত বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, নির্বাচনের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করা হবে এবং তার পরেই রাজনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা হবে।
নয়াদিল্লিতে এক সাপ্তাহিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জৈসওয়াল বলেন, বাংলাদেশে নির্বাচন চলছে। আমরা ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করব যাতে দেখা যায় কী ধরনের জনাদেশ এসেছে। তারপর আমরা সেই বিষয়গুলো দেখব। নির্বাচনের প্রসঙ্গে, আমাদের অবস্থান স্পষ্ট, আমরা চাই বাংলাদেশে মুক্ত, সুষ্ঠু, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হোক।
জৈসওয়াল আরও উল্লেখ করেন, ভারতকে যদিও নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠানোর আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, তবুও কোনো পর্যবেক্ষক পাঠানো হয়নি। আমাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল, কিন্তু আমরা কোনো পর্যবেক্ষক পাঠাইনি, তিনি জানান।
এদিকে, বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে এক রাজনৈতিক নেতার মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় মিডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শুরু হতেই বিক্ষোভ এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটতে শুরু করে, যা বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং নিরাপত্তার পরিস্থিতির ভঙ্গুরতা তুলে ধরে।
খুলনা জেলার আলিয়া মাদরাসা ভোটকেন্দ্রে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নেতা মহিবুজ্জামান কোচির মৃত্যু হয়। বাংলাদেশের প্রধান বাংলা দৈনিক যুগান্তর জানিয়েছে, ভোটকেন্দ্রের কাছে বিএনপি এবং জামায়াত-এ-ইসলামী সমর্থকদের মধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে উত্তেজনা দেখা দেয়।
খুলনা সদর থানা বিএনপি-এর সংগঠন সম্পাদক ইয়াসুফ হরুন মজনু বলেন, সকালে কেন্দ্রের পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। আলিয়া মাদরাসার প্রধান জামায়াতের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছিল। যখন তিনি তাকে বাধা দিলেন, তখন মহিবুজ্জামান কোচিকে ঠেলেন। ফলে তিনি একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে মাথায় আঘাত পান, যা তার মৃত্যুর কারণ।
ঘটনা নিশ্চিত করে খুলনা সদর থানার উপ-পরিদর্শক খান ফয়সাল রাফি বলেন, দুই দলের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিলে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আলাদা করি। খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে জরুরি মেডিকেল অফিসার পার্থ রায় জানান, বিএনপি নেতা কোচিকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়।
তথ্য অনুসারে, বৃহস্পতিবার সকালে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় একটি ভোটকেন্দ্রে ককটেল বোমা হামলায় তিনজন আহত হন। ঘটনাটি ঘটেছে রেশমা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল ভোটকেন্দ্রে। বাংলাদেশের এই উচ্চ-সন্ধিক্ষণ সংসদীয় নির্বাচন রাজনৈতিক সংঘাত এবং সহিংসতার মধ্যে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, এবং বেশ কয়েকটি দল নির্বাচনের সুষ্ঠু হওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

