রামনগর, ১২ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : কর্ণাটকে কংগ্রেসের অন্দরে নেতৃত্বের টানাপোড়েনের মাঝেই দলের বিধায়ক ইকবাল হুসেন দাবি করেছেন, প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জন কংগ্রেস বিধায়ক উপমুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমারকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দেখতে চান। শিবকুমারের অনুগত হিসেবে পরিচিত হুসেন বলেন, দলের বহু বিধায়কের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই ও কঠোর পরিশ্রমের স্বীকৃতি হিসেবে শিবকুমারের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া উচিত।
রামনগরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, শাসনের স্বার্থে এবং আসন্ন নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে শিবকুমারকে মুখ্যমন্ত্রী করা গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রেক্ষাপটে আমরা তাঁর জন্য মুখ্যমন্ত্রিত্ব দাবি করছি। কে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়ার পক্ষে আর কে শিবকুমারের পক্ষে, সে বিষয়ে আমি নিশ্চিত নই। তিনি আরও বলেন, সব ১৪০ জন বিধায়কই পরিবর্তনের আশা করছেন। এর মধ্যে প্রায় ৮০ থেকে ৯০ জন নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করছেন। আমরা সকলে শিবকুমারের পাশে আছি।
এদিকে সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়ার ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত কয়েকজন কংগ্রেস বিধায়কের বিদেশ সফর নিয়ে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব গুরুত্বসহকারে নজর দিয়েছে। কর্ণাটক কংগ্রেসের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা ও এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা নাকি ওই সফরে অংশ নেওয়া বিধায়কদের নাম চেয়েছেন।
সূত্রগুলির মতে, রাজ্যে নেতৃত্ব পরিবর্তনের জল্পনা প্রশমিত করতেই এই বিদেশ সফরের আয়োজন করা হয়েছিল। একই প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া বিশেষ অধিবেশনের পরই বাজেট প্রস্তুতি বৈঠক শুরু করেন। অন্যদিকে, নিজের দফতর-সংক্রান্ত একটি বৈঠকে উপমুখ্যমন্ত্রী শিবকুমার অনুপস্থিত ছিলেন। তিনি জানান, পূর্বানুমতি নিয়েই অনুপস্থিত ছিলেন।
সুরজেওয়ালা বিদেশ সফরের প্রকৃতি, অংশগ্রহণকারী বিধায়কদের রাজনৈতিক অবস্থান এবং সফরটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে কি না, এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য চেয়েছেন বলে জানা গেছে। রাজ্যের পশুপালনমন্ত্রী কে. ভেঙ্কটেশ জানান, কয়েকজন নেতা তাঁকেও বিদেশ সফরে যোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি স্পষ্ট করেন, এই সফর তাঁর মন্ত্রকের তরফে আয়োজিত নয়। বিধায়কদের বিদেশ সফর প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া বলেন, এমএলএ ও এমএলসিরা নিজেদের খরচেই বিদেশে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে, নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনার মাঝেই রাজ্য কংগ্রেস সভাপতি শিবকুমার জানান, তিনি নয়াদিল্লিতে সোনিয়া গান্ধীর বাসভবন ১০ জনপথে গিয়ে জাতীয় নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সময়ই সব প্রশ্নের উত্তর দেবে, মন্তব্য তাঁর।
১০ জনপথে কাদের সঙ্গে দেখা করেছেন, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভাদ্রা বা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে কি না, এই প্রশ্নের জবাবে শিবকুমার বলেন, আমি ১০ জনপথে গিয়েছি। কাদের সঙ্গে দেখা করেছি বা কেন করেছি, তা প্রকাশ করার প্রয়োজন নেই। রাস্তায় দাঁড়িয়ে রাজনীতি করতে আমি রাজি নই। জাতীয় নেতৃত্বের সঙ্গে যা আলোচনা করার ছিল, করেছি। সেটুকুই।

