সাহিবগঞ্জ (ঝাড়খণ্ড), ১১ ফেব্রুয়ারি (আইএএনএস) : ঝাড়খণ্ডের সাহিবগঞ্জ জেলার রতনপুর গ্রামে ১৫ বছরের এক কিশোরকে খুনের অভিযোগে তার মা এবং মায়ের প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার পুলিশ এই তথ্য জানিয়েছে। ধৃতদের নাম মীনু দেবী এবং রোহিত সাহ। দু’জনকেই গ্রেপ্তার করে আদালতে পেশ করা হয় এবং পরে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কিশোর আয়ুষের রহস্যজনক মৃত্যুর তদন্ত করতে গিয়ে এই ঘটনার পর্দাফাঁস হয়। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে, মীনু দেবীর সঙ্গে তাঁরই ভাতিজা রোহিত সাহের অবৈধ সম্পর্ক ছিল।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ৭ ফেব্রুয়ারি মীনু দেবীর স্বামী হেমন্ত সাহ কাজে বাইরে গেলে রোহিত বাড়িতে আসে। সেই সময় আয়ুষ দু’জনকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে এবং চিৎকার শুরু করে। বিষয়টি পরিবার ও গ্রামের লোকজনের কাছে ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় অভিযুক্তরা কিশোরকে দড়ি দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে বলে অভিযোগ।
খুনের পর ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বা নিখোঁজের ঘটনা হিসেবে দেখানোর জন্য বাড়ির পেছনের একটি পুকুরের ধারে দেহ ফেলে রাখা হয়। হেমন্ত সাহ বাড়ি ফিরে এলে মীনু দেবী গল্প বানিয়ে বলেন, আয়ুষ বাথরুমে যাওয়ার জন্য বেরিয়েছিল এবং আর ফেরেনি। পরে পরিবারের সদস্য ও গ্রামবাসীরা খোঁজাখুঁজি শুরু করে পুকুরের ধারে অচেতন অবস্থায় কিশোরকে পড়ে থাকতে দেখেন। তাকে দ্রুত বরহরওয়া কমিউনিটি হেলথ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখান থেকে পাকুড়ের সোনাঝোরি হাসপাতালে রেফার করা হয়। তবে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরিবার যখন শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, তখন মৃত্যুকে ঘিরে সন্দেহজনক পরিস্থিতির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়। মৃতের বাবার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের মামলা রুজু হয়। তদন্ত চলাকালীন পারিপার্শ্বিক প্রমাণ এবং অভিযুক্তদের টানা জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার পূর্ণ চিত্র সামনে আসে। মীনু দেবীর বয়ানে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় পুলিশের সন্দেহ আরও জোরদার হয় এবং শেষ পর্যন্ত খুনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

