গ্রামীণ ভারতে আগামী ১০ বছরে ভিবি-জি রামজি প্রকল্পে ব্যয় হবে ১০ লাখ কোটি টাকা: শিবরাজ সিং চৌহান

আগরতলা, ১১ ফেব্রুয়ারি :
গ্রামীণ ভারতের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে আগামী দশ বছরে ভিকশিত ভারত–গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আয়জীবিকা মিশন (গ্রামীণ) প্রকল্পের আওতায় মোট ১০ লাখ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় কৃষি, কৃষক কল্যাণ ও গ্রামীণ উন্নয়নমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান।

আজ স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে ভিবি-জি রামজি প্রকল্পে সংক্রান্ত এক সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বলেন, এই প্রকল্প গ্রামীণ ভারতের জন্য একটি সমন্বিত রোডম্যাপ, যা ভিকশিত ভারত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। সমাজের সব স্তরের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পিত এই কর্মসূচি গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, ভিবি-জি রামজি প্রকল্পের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো প্রতিজন শ্রমিকের জন্য বছরে ১২৫ দিনের কাজের নিশ্চয়তা, যা আগের ১০০ দিনের কাজের গ্যারান্টির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

তিনি আরও জানান, গ্রামীণ উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য ১,৫১,২৮২ কোটি টাকা ইতিমধ্যেই বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি অর্থ কমিশনের মাধ্যমে অতিরিক্ত ৫৫,০০০ কোটি টাকা দেওয়া হবে। এর ফলে আগামী পাঁচ বছরে মোট বরাদ্দ দাঁড়াবে ২ লাখ কোটি টাকারও বেশি।

চৌহান বলেন, ভিবি-জি রামজি প্রকল্পের আওতায় আগামী পাঁচ বছরে দেশের গ্রামীণ এলাকায় প্রায় ১০ লাখ কোটি টাকা ব্যয় হবে। দেশে বর্তমানে ২.৮৬ কোটি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে এবং প্রতিটি পঞ্চায়েত এই সময়কালে গড়ে ১.৫০ কোটি থেকে ২.৭৫ কোটি টাকা পর্যন্ত পাবে।

পূর্ববর্তী সরকারের সঙ্গে তুলনা টেনে তিনি বলেন, ইউপিএ সরকারের সময় দশ বছরে গ্রামীণ কর্মসংস্থানে খরচ হয়েছিল ২.১৩ লাখ কোটি টাকা, যেখানে এনডিএ সরকার গত দশ বছরে ৮.৫৪ লাখ কোটি টাকা ব্যয় করেছে।

তিনি জানান, ভিবি-জি রামজি প্রকল্পে কাজ চাওয়া সত্ত্বেও যদি কোনো শ্রমিককে কাজ দেওয়া না যায়, তাহলে সংশ্লিষ্ট উপকারভোগীকে বেকার ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়াও মজুরি প্রদানে বিলম্ব হলে শ্রমিকরা সুদের সঙ্গে বকেয়া মজুরি পাবেন।

প্রকল্প বাস্তবায়ন আরও কার্যকর করতে প্রশাসনিক খরচ ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯ শতাংশ করা হয়েছে। এর ফলে পঞ্চায়েত সচিব, কর্মসংস্থান সহকারী, কেরানী ও কারিগরি কর্মীদের বেতন সংক্রান্ত সমস্যা আর থাকবে না বলে জানান তিনি।

ত্রিপুরা প্রসঙ্গে চৌহান বলেন, পূর্ববর্তী বাম ও কংগ্রেস সরকারের আমলে রাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়নি। বর্তমান সরকার প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার মাধ্যমে পাকা বাড়ি নির্মাণ করছে, যাতে কোনো দরিদ্র পরিবারকে আর কাঁচা ঘরে বসবাস করতে না হয়।

ভিবি-জি রামজি প্রকল্প নিয়ে যে সমালোচনা চলছে, তা উল্লেখ করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, এই নিয়ে একটি ভ্রান্ত প্রচারণা চালানো হচ্ছে। বাস্তবে আদিবাসী, অনগ্রসর ও অন্যান্য দরিদ্র শ্রেণির মানুষই এই প্রকল্পের মূল উপকারভোগী হবেন।

উক্ত অনুষ্ঠানে শিবরাজ সিং চৌহান ত্রিপুরায় ১৭৯টি গ্রামীণ উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এই প্রকল্পগুলির মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৫৪৬.৭৯ কোটি টাকা।

(আইএএনএস)

Leave a Reply