বাজেট অধিবেশন শুরু হতেই উত্তাল উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা, এসপি বিধায়কদের ‘গভর্নর গো ব্যাক’ স্লোগানে উত্তেজনা

লখনউ: সোমবার উত্তরপ্রদেশ বিধানসভার বাজেট অধিবেশন শুরু হতেই তীব্র হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেলের যৌথ অধিবেশনে ভাষণের সময় বিরোধী সমাজবাদী পার্টির (এসপি) বিধায়করা সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান তুলে অধিবেশন উত্তাল করে তোলেন।

অধিবেশন শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এসপি বিধায়করা হাতে সরকার-বিরোধী প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে পড়েন এবং ‘গভর্নর গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে থাকেন। প্রবল বিক্ষোভের মধ্যেও রাজ্যপাল তাঁর ভাষণ অব্যাহত রাখেন।

হট্টগোল চলাকালীন এসপি বিধায়ক পল্লবী প্যাটেল নিজের আসনে বসে থাকেন এবং দলের সহকর্মীদের আহ্বান সত্ত্বেও বিক্ষোভে যোগ দেননি। অন্যদিকে, সরধনা কেন্দ্রের এসপি বিধায়ক অতুল প্রধান আহিল্যাবাঈ হোলকারের মূর্তি সংক্রান্ত বিষয় উত্থাপন করেন।

এসপি বিধায়কদের প্রদর্শিত প্ল্যাকার্ডগুলিতে লেখা ছিল উন্নয়নের নামে ধ্বংস, হাসপাতালে ওষুধ নেই, পরিকাঠামো নেই, গরিবদের কোনও শুনানি নেই, পিডিএ বিজেপি শাসনের অবসান ঘটাবে এবং এসআইআর একটি ষড়যন্ত্র।

পূর্বপরিকল্পিত কর্মসূচি অনুযায়ী, রাজ্যপালের সম্পূর্ণ ভাষণ জুড়েই এসপি বিধায়করা ‘গো ব্যাক, গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে থাকেন।

হট্টগোলের মধ্যেই ভাষণে রাজ্যপাল আনন্দীবেন প্যাটেল দাবি করেন, রাজ্য সরকারের উদ্যোগে উত্তরপ্রদেশে প্রায় ছয় কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার বাইরে উঠে এসেছেন।

এদিকে, এসপি বিধায়ক জাহিদ বেগ পৃথকভাবে বিধানসভা চত্বরে বিক্ষোভ দেখান। তিনি এসআইআর এবং ফর্ম-৭ সংক্রান্ত ইস্যুতে প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ করেন।

এর আগে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ সাংবাদিকদের জানান, রাজ্যপালের ভাষণের পর বিধানসভায় রাজ্যের অর্থনৈতিক সমীক্ষা পেশ করা হবে। তিনি বলেন, এই প্রথম কোনও রাজ্য সরকার এত বিস্তৃতভাবে তাদের অর্থনৈতিক সাফল্যের হিসাব তুলে ধরছে।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, উত্তরপ্রদেশ পিছিয়ে পড়া রাজ্য থেকে বেরিয়ে এসে এখন দেশের অর্থনীতিতে একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করেছে।

উল্লেখ্য, অধিবেশন শুরুর আগেই সমাজবাদী পার্টির বিধায়ক ও বিধান পরিষদের সদস্যরা বিধানসভা চত্বরে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী চৌধুরী চরণ সিংয়ের মূর্তির কাছে বিক্ষোভ দেখান এবং বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন।