পশ্চিমবঙ্গে ভোটার নথি যাচাইয়ে অতিরিক্ত এক সপ্তাহ সময় বৃদ্ধি, সুপ্রিম নির্দেশ

নয়াদিল্লি, ৯ ফেব্রুয়ারি : পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া ঘিরে ওঠা উদ্বেগ মোকাবিলায় সোমবার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। প্রশাসনিক প্রয়োজন এবং নির্বাচনী স্বচ্ছতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই নির্দেশ বলে জানিয়েছে আদালত।

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি এন. ভি. অঞ্জারিয়া। বেঞ্চ পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে নির্দেশ দেয়, চিহ্নিত ৮,৫০৫ জন আধিকারিককে যেন তাঁদের নিজ নিজ জেলা নির্বাচন আধিকারিকদের (ডিইও) কাছে রিপোর্ট করতে বলা হয়, যাতে তাঁরা নির্বাচন সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করতে পারেন।

আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে, এই আধিকারিকদের কাজ বণ্টনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন যেন যথাসম্ভব তাঁদের পছন্দের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়। পাশাপাশি, তাঁদের জীবনবৃত্তান্ত ও কাজের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে মাইক্রো অবজারভার হিসেবে নিয়োগ করা যায় কি না, সেটিও মূল্যায়ন করতে বলা হয়েছে। কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য নিয়োগের আগে সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে আদালত।

সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করেছে, নিয়োগ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিকরা (ইআরও), যাঁরাই জেলা নির্বাচন আধিকারিকের ভূমিকাও পালন করেন। একই সঙ্গে ভোটার নথি যাচাইয়ের জন্য অতিরিক্ত এক সপ্তাহ সময় দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত হয়।

এই মামলাটি পশ্চিমবঙ্গে প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা একাধিক আবেদনের সঙ্গে যুক্ত। আদালত বর্তমানে প্রক্রিয়াগত অনিয়মের অভিযোগ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের উত্থাপিত উদ্বেগ খতিয়ে দেখছে।

এর আগে, ৪ ফেব্রুয়ারির শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গ সরকারকে এসআইআর প্রক্রিয়ায় মোতায়েনযোগ্য গ্রুপ ‘বি’ আধিকারিকদের তালিকা দিতে বলেছিল। সেই শুনানিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত হয়ে অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গকে “টার্গেট” করছে এবং এই এসআইআর প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য অন্তর্ভুক্তি নয়, বরং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া।

এরও আগে, ১৯ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দিয়েছিল, ‘লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি’ তালিকায় থাকা ভোটারদের যাচাই যেন সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে করা হয়। এই নির্দেশ তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের দায়ের করা আবেদনের প্রেক্ষিতে দেওয়া হয়েছিল।

সোমবারের শুনানিতে আদালতকে জানানো হয়, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ৮,৫০৫ জন গ্রুপ ‘বি’ আধিকারিককে চিহ্নিত করে তাঁদের বিবরণ নির্বাচন কমিশনের হাতে তুলে দিয়েছে। রাজ্য সরকার আগেই জানিয়েছিল, কমিশনের সম্মতির অপেক্ষায় থাকার কারণেই তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়া হয়নি।

শুনানিতে সলিসিটর জেনারেল আদালতকে সহায়তা করেন এবং নির্বাচন কমিশনের দাখিল করা হলফনামার উল্লেখ করেন। ওই হলফনামায় SIR প্রক্রিয়ার সময় আধা-বিচারিক নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য প্রশিক্ষিত কর্মীর ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল।