নয়াদিল্লি, ৯ ফেব্রুয়ারি : সোমবার সকালে অগভীর কুয়াশা ও তুলনামূলকভাবে কিছুটা উষ্ণ আবহাওয়ার মধ্য দিয়ে দিন শুরু করেছে দিল্লি। এর মাধ্যমে ধীরে ধীরে শীতের প্রভাব কমার ইঙ্গিত মিললেও বায়ু দূষণের পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের(সিপিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৭টায় দিল্লির সামগ্রিক বায়ু মান সূচক (একিউআই) ছিল ২০৬, যা ‘খারাপ’ শ্রেণিতে পড়ে।
শহরের একাধিক পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে বায়ু মান খারাপ থেকে মাঝারি স্তরে রেকর্ড হয়েছে। সিপিসিবি-এর তথ্য অনুযায়ী, আনন্দ বিহারে একিউআই ছিল ২৮৯, বাওয়ানায় ২৫৯, চাঁদনি চকে ১৯৩, ডিটিইউ-তে ২০৬, আইজিআই বিমানবন্দর (টি-৩)-এ ১৭৯, আইআইটি দিল্লিতে ১৫৫, আইটিও-তে ২১৬, জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে ২১৩, মুন্ডকায় ২৭৬, নরেলায় ২৩৩, নর্থ ক্যাম্পাসে ১৩৫, পাটপড়গঞ্জে ২০৮, রোহিণীতে ২৬০, পুসায় ১৫৯ এবং ওয়াজিরপুরে ২৫৪।
প্রতিবেশী নয়ডাতেও বায়ু মান উদ্বেগজনক রয়েছে। নয়ডা সেক্টর-১২৫-এ একিউআই রেকর্ড হয়েছে ২৩৭, সেক্টর-৬২-তে ১৫৪, সেক্টর-১-এ ১৯২ এবং সেক্টর-১১৬-তে ১৯৫।
একিউআই শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী, ০–৫০ ‘ভাল’, ৫১–১০০ ‘সন্তোষজনক’, ১০১–২০০ ‘মাঝারি’, ২০১–৩০০ ‘খারাপ’, ৩০১–৪০০ ‘অত্যন্ত খারাপ’ এবং ৪০১–৫০০ ‘গুরুতর’ হিসেবে বিবেচিত হয়।
এদিন দিল্লির সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সকালবেলায় অগভীর কুয়াশার কারণে কিছু এলাকায় দৃশ্যমানতা কমলেও বড় ধরনের কোনও ব্যাঘাতের খবর মেলেনি।
আগামী কয়েকদিন দিল্লিতে কুয়াশা ও হালকা ধোঁয়াশা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি) জানিয়েছে, ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিশেষ করে ভোর ও গভীর রাতে কুয়াশা দেখা যেতে পারে। দিনের তাপমাত্রা ২৩ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ থেকে ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকার সম্ভাবনা। আর্দ্রতার মাত্রা ৫০ থেকে ৬০ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে।
শীতের শেষের দিকে এসেও দিল্লির বহু এলাকায় দূষণের মাত্রা বেশি থাকায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষত ভোরের দিকে কুয়াশা ও দূষণ একসঙ্গে মিশে বায়ুর মান আরও খারাপ করে তুলছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
এদিকে, বায়ু গুণমান ব্যবস্থাপনা কমিশন (সিএকিউএম) রবিবার জানিয়েছে, জাতীয় রাজধানী অঞ্চল (এনসিআর)-এর ১২টি শহর, দিল্লি ও চারটি এনসিআর রাজ্য চলতি বছরে দূষণ কমাতে বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা জমা দিয়েছে। দিল্লির পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশ, হরিয়ানা ও রাজস্থান বার্ষিক গড় একিউআই ও সূক্ষ্ম কণার দূষণ কমাতে খাতভিত্তিক কৌশল পেশ করেছে।
যেসব এনসিআর শহর প্রস্তাব জমা দিয়েছে, সেগুলির মধ্যে রয়েছে আগ্রা, মেরঠ, নয়ডা, গ্রেটার নয়ডা, গাজিয়াবাদ, কর্নাল, ফরিদাবাদ, গুরুগ্রাম, মানেসর, পানিপথ, রোহতক ও সোনিপথ।
দিল্লির কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, গত পাঁচ বছরের গড়ের তুলনায় ২০২৬ সালে বার্ষিক গড় একিউআই ১৫ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি, পিএম২.৫ কণার ঘনত্ব ১৫ শতাংশ এবং পিএম১০ মাত্রা ২০ শতাংশ কমানোর প্রস্তাবও রয়েছে।

