আগরতলা, ৯ ফেব্রুয়ারি: জনগণকে ভয় না পেয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সংঘটিত প্রতিবাদ জানাতে হবে। সরকার সহজে জনগণের দাবি মেনে নেবে না। তাই দেশব্যাপী ধর্মঘটে সকলের ঐক্যবদ্ধ যোগদানের আহবান জানালেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী সর্বাত্মক ধর্মঘটকে সফল করার লক্ষ্যে সোমবার আগরতলা শহরে সিআইটিইউ সহ বিভিন্ন ট্রেড ইউনিয়ন ও গণসংগঠনের পক্ষ থেকে এক বিশাল মিছিল সংগঠিত করা হয়। এই মিছিলে অংশ নেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও সিপিআইএমের বরিষ্ঠ নেতা মানিক সরকার। মিছিলটি রাজধানীর বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে শকুন্তলা রোডে এসে শেষ হয়।
মিছিল শেষে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মানিক সরকার বলেন, যখন যুক্তি ও পরামর্শের সব পথ বন্ধ হয়ে যায়, তখন আন্দোলনই শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। তিনি বলেন, বর্তমান বিজেপি সরকার সহজে জনগণের দাবির কাছে মাথা নত করবে না। তাই জনগণকে ভয় না পেয়ে সংগঠিতভাবে প্রতিবাদ জানাতে হবে।
এদিনের কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন সিআইটিইউ-র রাজ্য সভাপতি মানিক দে, সাধারণ সম্পাদক শংকর প্রসাদ দত্ত সহ অন্যান্য ট্রেড ইউনিয়ন ও বামপন্থী গণসংগঠনের নেতৃত্ব।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট করে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির ধর্মঘট কোনও দলীয় পিকেটিংয়ের মাধ্যমে নয়, বরং মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই সফল করতে হবে। বামফ্রন্ট রাস্তায় নেমে পিকেটিং করবে না, বরং সাধারণ মানুষকে নিজ নিজ চেতনা থেকে সেদিন কর্মস্থলে না যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শ্রমিক স্বার্থের প্রসঙ্গে মানিক সরকার অভিযোগ করেন, বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার শ্রম কোড কার্যকর করে মালিকপক্ষের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, এই শ্রম কোডের মাধ্যমে শ্রমিকদের দৈনিক আট ঘণ্টার কাজের অধিকার হরণ করে ১০ থেকে ১৫ ঘণ্টা কাজ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত কাজের জন্য অতিরিক্ত মজুরি পাওয়ার অধিকারও কেড়ে নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে মজুরি সংক্রান্ত দরকষাকষির সুযোগও বন্ধ করার ষড়যন্ত্র চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, এই পরিস্থিতিতে দেশের কৃষক ও শ্রমিকদের সামনে আর কোনও বিকল্প পথ খোলা নেই। তাই বাধ্য হয়েই শ্রমিকরা ১২ ফেব্রুয়ারির ধর্মঘটে নামতে চলেছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের কড়া সমালোচনা করে মানিক সরকার বলেন, বর্তমানে দেশ পরিচালিত হচ্ছে পুঁজিপতি ও সাম্প্রদায়িক শক্তির দ্বারা। সরকার নির্বাচিত কিছু বড় পুঁজিপতির স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে তাদের করছাড় দিচ্ছে, আর অন্যদিকে শ্রমিক ও কৃষকদের অধিকার একের পর এক আক্রমণের মাধ্যমে হরণ করছে। এর ফলে দেশজুড়ে এক অস্বাভাবিক ও অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে ১২ ফেব্রুয়ারির ধর্মঘটকে সফল করার লক্ষ্যে বামপন্থী সংগঠনগুলি নতুন করে প্রচার ও আন্দোলনের ডাক দেয়।

