উদয়পুর, ৯ ফেব্রুয়ারি: চলতিবছরের শুরুতেই জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে এক উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে গোমতী জেলা। পশুকামড় ও সর্পদংশনের মতো প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থাপনায় জেলার স্বাস্থ্য দপ্তরের ধারাবাহিক উদ্যোগে মৃত্যুহার কার্যত শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে বলে স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে।
কুকুর, বাঁদর, ভাল্লুকসহ বিভিন্ন প্রাণীর কামড় এবং বিষধর সাপের দংশনে আক্রান্ত রোগীদের সময়মতো জীবনদায়ী চিকিৎসা পরিষেবা নিশ্চিত করায় জেলায় ঘটনার সংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও মৃত্যুর হার এখনো পর্যন্ত সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা গেছে। ইন্টিগ্রেটেড ডিজিজ সার্ভিল্যান্স প্রোগ্রাম-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দ্রুত চিকিৎসা হস্তক্ষেপের মাধ্যমে গোমতী জেলা হাজার হাজার মানুষকে জলাতঙ্ক ও সাপের বিষক্রিয়া থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ৩৬ দিনের মধ্যেই জেলায় ২৫১টি কুকুরের কামড় এবং ১৭২টি অন্যান্য প্রাণীর কামড়ের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। এসব ক্ষেত্রেই দ্রুত চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করে রোগীদের সুস্থ করে তোলা সম্ভব হয়েছে, যা জেলার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার তৎপরতা ও প্রস্তুতিরই প্রতিফলন।
গোমতী জেলার ডিস্ট্রিক্ট সার্ভিল্যান্স অফিসার ডা. সৌমিক চক্রবর্তী জানান, পশুকামড় ও সর্পদংশনের ক্ষেত্রে চিকিৎসার একটি নির্দিষ্ট ‘ক্রিটিক্যাল উইন্ডো’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ের মধ্যে অ্যান্টি-র্যাবিস ভ্যাকসিন ও অ্যান্টি-র্যাবিস সিরাম প্রদান নিশ্চিত করাই মৃত্যুহার রোধের মূল চাবিকাঠি। তিনি এই সাফল্যের জন্য জেলার সমস্ত মেডিকেল অফিসার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরলস পরিশ্রমের প্রশংসা করেন।
অন্যদিকে, গোমতী জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. কমল রিয়াং এই সাফল্যের নেপথ্যে দ্বিমুখী কৌশলের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আইএইচআইপি-এর মাধ্যমে তাৎক্ষণিক তথ্য সংগ্রহ ও দ্রুত ক্লিনিক্যাল সাড়া দেওয়াই আমাদের সাফল্যের ভিত্তি। পাশাপাশি, বিভিন্ন প্রাণীর কামড়কে আলাদাভাবে শ্রেণিবদ্ধ করায় বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত ঝুঁকি আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও অভিজ্ঞ মহলের মতে, এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন এবং অপ্রয়োজনীয় হয়রানি অনেকাংশে কমবে। জনস্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে গোমতী জেলার এই সাফল্য রাজ্যের অন্যান্য জেলার জন্যও দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে বলে মত প্রকাশ করা হয়েছে।

