নয়াদিল্লি/গুয়াহাটি, ৮ ফেব্রুয়ারি : বিজেপির একটি অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে প্রকাশিত অসমের মুখ্যমন্ত্রীর বিতর্কিত ভিডিওকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কংগ্রেস ও তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা ভিডিওটিকে ঘৃণা ও হিংসা উসকে দেওয়ার অভিযোগে সরব হয়ে কেন্দ্র ও অসম সরকারের কড়া সমালোচনা করেছেন। অবশ্য, অসম বিজেপি অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডল থেকে ওই ভিডিওটি মুছে ফেলা হয়েছে।
কংগ্রেস সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ কেসি বেণুগোপাল অভিযোগ করেন, বিজেপির একটি অফিসিয়াল হ্যান্ডলে সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে “পয়েন্ট-ব্ল্যাঙ্ক” হত্যার দৃশ্য দেখানো হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এটি কোনও নিছক ট্রোল কনটেন্ট নয়। এটি সরাসরি গণহত্যার আহ্বান, যে স্বপ্ন এই ফ্যাসিবাদী শাসন বহু দশক ধরে লালন করছে।
তিনি আরও বলেন, এই ধরনের বিষ ছড়ানো হচ্ছে ক্ষমতার একেবারে শীর্ষ স্তর থেকে এবং এর অবশ্যই পরিণতি হওয়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর তরফে কোনও নিন্দা বা পদক্ষেপের আশা নেই বলেও মন্তব্য করেন বেণুগোপাল। তাঁর দাবি, এই ঘটনায় বিচারব্যবস্থার হস্তক্ষেপ জরুরি এবং কোনও রকম শিথিলতা দেখানো উচিত নয়।
অসম তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী সুশমিতা দেবও এই ভিডিওকে ঘিরে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার ভূমিকার সমালোচনা করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গত বছর ‘ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা’-তে ‘ভূমিপুত্রদের’ জন্য সুরক্ষার অজুহাতে নতুন বন্দুক লাইসেন্স নীতির ঘোষণা করা হয়েছিল। প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, কার বিরুদ্ধে সুরক্ষা? এখন দেখা যাচ্ছে, বিজেপি অসমের অফিসিয়াল হ্যান্ডলেই পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক! বন্দুক ব্যবহারের দৃশ্য দেখানো হচ্ছে।
সুস্মিতা দেবের অভিযোগ, অসমের মানুষ ও সংস্কৃতি এই ধরনের ঘৃণার প্রতিনিধিত্ব করে না, যা অসমিয়া সংস্কৃতির নামে তুলে ধরা হচ্ছে। তিনি বলেন, অসমে অনুপ্রবেশ একটি বাস্তব সমস্যা, কিন্তু রাজনীতির স্বার্থে সেটিকে জিইয়ে রাখা হচ্ছে। একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায় বা বাংলা ভাষাকে যা আমার মাতৃভাষা দানবায়িত করে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
এনআরসি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি স্থায়ী সমাধান দিতে পারত, কিন্তু বিজেপি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ব্যর্থ হয়েছেন। তাঁর মতে, অসমের বর্তমান পরিস্থিতি মণিপুরের মতোই গুরুতর এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বর্তমান সরকারকে যেকোনও মূল্যে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে।
কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনেতও কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, যে ভিডিওতে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে মুসলিমদের দিকে গুলি ছুড়তে দেখা যাচ্ছে এবং ‘পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক শট’ লেখা রয়েছে, তা শুধু মুছে ফেললেই দায়িত্ব শেষ হয় না।
তিনি দাবি করেন, এটাই বিজেপির আসল চেহারা, গণহত্যার রাজনীতি। এই বিষ, ঘৃণা ও হিংসার দায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, আদালত ও অন্যান্য সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলি কি এই ঘটনায় নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছে?
এই বিতর্কিত ভিডিও ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে এবং বিষয়টি নিয়ে আইনি ও সাংবিধানিক পদক্ষেপের দাবিও জোরালো হচ্ছে।

