চণ্ডীগড়, ৮ ফেব্রুয়ারি : সুরজকুণ্ড মেলায় জয়রাইড দুর্ঘটনার ঘটনায় হরিয়ানা পুলিশ রবিবার জানিয়েছে, নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুতর গাফিলতির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং রাইড পরিচালনাকারী সংস্থার মালিকসহ দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ফরিদাবাদের সুরজকুণ্ড মেলায় একটি বিশাল দোলনা ভেঙে পড়ে। দুর্ঘটনায় উদ্ধারকাজ চালানোর সময় কর্তব্যরত পুলিশ ইন্সপেক্টর জগদীশ প্রসাদের মৃত্যু হয় এবং অন্তত ১২ জন আহত হন। এই ঘটনায় হিমাচল ফান কেয়ার কোম্পানির স্বত্বাধিকারী মহম্মদ শাকিরের বিরুদ্ধে খুন নয় এমন অপরাধজনিত হত্যাকাণ্ডসহ সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আহতদের উদ্ধারের চেষ্টা করার সময়ই ইন্সপেক্টর জগদীশ প্রসাদ প্রাণ হারান।
এক পুলিশ মুখপাত্র জানান, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে পুলিশ মহাপরিচালক অজয় সিংহালের নির্দেশে ডেপুটি কমিশনার অব পুলিশ (ক্রাইম)-এর তত্ত্বাবধানে তিন সদস্যের একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হয়েছে। এই দলে রয়েছেন সহকারী পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম-২), ক্রাইম ব্রাঞ্চ (এনআইটি)-এর ইনচার্জ এবং সুরজকুণ্ড থানায় কর্মরত সাব-ইন্সপেক্টর সঞ্জয়। তদন্তটি বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত ভিত্তিতে চালানো হচ্ছে।
তদন্ত চলাকালীন পুলিশ হিমাচল প্রদেশের সিরমৌর জেলার টোকা নাংলা গ্রামের বাসিন্দা মহম্মদ শাকিরকে গ্রেপ্তার করেছে। তিনি মেলা প্রাঙ্গণে দোলনা স্থাপনের দায়িত্বে ছিলেন। পাশাপাশি উত্তরপ্রদেশের মেরঠ জেলার ধর্মপুরীর বাসিন্দা নীতেশ নামে আরও এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য ব্যক্তিদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
হরিয়ানার পুলিশ মহাপরিচালক বলেন, কর্তব্যরত অবস্থায় আহতদের উদ্ধারে ইন্সপেক্টর জগদীশ প্রসাদ যে সাহসিকতা ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন, তা প্রশংসনীয়। তাঁর মৃত্যু পুলিশ বিভাগের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি জানান, মৃতের পরিবারকে সব ধরনের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে এবং সহানুভূতিশীল নীতির আওতায় পরিবারের একজন যোগ্য সদস্যকে চাকরি দেওয়া হবে।
পুলিশ মহাপরিচালক ফরিদাবাদের সিভিল হাসপাতাল ও সুপ্রিম হাসপাতাল পরিদর্শন করে আহতদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই দুর্ঘটনায় মোট ১২ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মহিলা সহকারী সাব-ইন্সপেক্টর নীলম, মহিলা কনস্টেবল শর্মিলা, রাজেশ (এসপিও), হর্ষ প্রকাশ, প্রশান্ত, আমিশা, পরভিন্দর, সুনীল, শিবানী, বলবীর, অনুজ এবং পূজা। আহতদের মধ্যে পাঁচ জনকে ইতিমধ্যেই হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি আহতদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে পুলিশ এবং তাঁদের উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

