রাষ্ট্রপতি মুর্মুর বাস্তার সফরের মধ্যেই ছত্তীসগড়ের বিজাপুরে ৩০ মাওবাদীর আত্মসমর্পণ

বিজাপুর, ৭ ফেব্রুয়ারি : ছত্তীসগড়ে চলমান মাওবাদীবিরোধী অভিযানে বড় সাফল্য মিলল শনিবার। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর বাস্তার সফরের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে বিজাপুর জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর সামনে আত্মসমর্পণ করলেন ৩০ জন মাওবাদী ক্যাডার। এই ঘটনাকে রাজ্যের আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন নীতির ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে ছিলেন ২০ জন মহিলা ও ১০ জন পুরুষ। তাঁরা সশস্ত্র সংগ্রাম ও জনবিরোধী মতাদর্শ ত্যাগ করে ভারতের সংবিধানের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন এবং গণতান্ত্রিক সমাজে মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের অঙ্গীকার করেন। তাঁদের বিভিন্ন পদ ও ভূমিকাকে বিবেচনা করে মোট ৮৫ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষিত ছিল, যা শান্তিপূর্ণ পথে তাঁদের নিরস্ত্রীকরণের গুরুত্বকে তুলে ধরে।

আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে মাওবাদীরা স্বেচ্ছায় বিস্ফোরকও জমা দেন। এর মধ্যে ছিল এক বান্ডিল কর্ডেক্স তার এবং ৫০টি জেলাটিন স্টিক। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয় সিনিয়র কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে। উপস্থিত ছিলেন সিআরপিএফ অপারেশনস বিজাপুর সেক্টরের ডেপুটি ইনস্পেক্টর জেনারেল অব পুলিশ বি. এস. নেগি, বিজাপুরের পুলিশ সুপার ড. জিতেন্দ্র কুমার যাদব, সহ একাধিক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও ডেপুটি সুপার।

প্রতিটি আত্মসমর্পণকারীকে প্রাথমিকভাবে ৫০,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সম্পূর্ণ পুনর্বাসন ও সমাজে পুনরায় অন্তর্ভুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগ রাজ্য সরকারের ‘পুনঃমার্গম: পুনর্বাসন থেকে পুনরুজ্জীবন’ অভিযানের অংশ, যা শান্তি, সংলাপ ও উন্নয়নের ওপর জোর দেয়।

বিজাপুরের পুলিশ সুপার ড. জিতেন্দ্র কুমার যাদব অবশিষ্ট মাওবাদীদের উদ্দেশে আবেদন জানিয়ে বলেন, ভ্রান্ত ও হিংসাত্মক মতাদর্শ ত্যাগ করে নির্ভয়ে মূলধারায় ফিরে আসুন। ‘পুনঃমার্গম’ নীতি একটি নিরাপদ, সম্মানজনক ও স্বনির্ভর ভবিষ্যতের জন্য সমস্ত সুযোগ প্রদান করে।

বাস্তার রেঞ্জের আইজি সুন্দররাজ পি. পট্টিলিঙ্গম এই আত্মসমর্পণকে মাওবাদী সংগঠনের দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ার প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, প্রত্যন্ত এলাকায় নিরাপত্তা শিবির স্থাপন, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, ধারাবাহিক মাওবাদীবিরোধী অভিযান এবং সরকারি প্রকল্পের কার্যকর বাস্তবায়নের ফলেই এই সাফল্য এসেছে। হিংসার পথ ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়, আর ‘পুনঃমার্গম’ শান্তি ও ইতিবাচক ভবিষ্যতের দিশা দেখায়, অন্যদেরও অস্ত্র ত্যাগের আহ্বান জানিয়ে বলেন তিনি।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র বিজাপুর জেলায় ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এখনও পর্যন্ত ৯১৮ জন মাওবাদী মূলধারায় ফিরে এসেছেন, ১,১৬৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন এবং সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন ২৩২ জন। এই পরিসংখ্যান ডিআরজি, জেলা বাহিনী, ছত্তীসগড় সশস্ত্র বাহিনী, এসটিএফ, কোবরা ব্যাটালিয়ন এবং বিভিন্ন সিআরপিএফ ইউনিটের সমন্বিত অভিযানের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতার প্রতিফলন বলেই জানিয়েছে প্রশাসন।

Leave a Reply