ভারত-যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তির যৌথ বিবৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের অভাব রয়েছে : জয়রাম রমেশ

নয়াদিল্লি, ৭ ফেব্রুয়ারি : ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অন্তর্বর্তী বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পরেও যৌথ বিবৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করলেন কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা জয়রাম রমেশ। শনিবার তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত প্রকাশিত ভারত-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ বিবৃতি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরব।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ জয়রাম রমেশ লেখেন, এইমাত্র প্রকাশিত ভারত-যুক্তরাষ্ট্র যৌথ বিবৃতি গুরুত্বপূর্ণ খুঁটিনাটি বিষয়ে নীরব।

তিনি দাবি করেন, প্রকাশিত তথ্য থেকে ইঙ্গিত মিলছে যে ভারত আর রাশিয়া থেকে তেল আমদানি করবে না। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র আলাদাভাবে ঘোষণা করেছে, ভারত যদি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাশিয়া থেকে তেল কেনে, তাহলে ফের ২৫ শতাংশ জরিমানা শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।

জয়রাম রমেশ আরও বলেন, আমেরিকার কৃষকদের সুবিধা দিতে গিয়ে ভারত সরকার আমদানি শুল্ক কমাবে, যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন ভারতীয় কৃষকরা। তাঁর অভিযোগ, এই চুক্তির ফলে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতের বার্ষিক আমদানি তিনগুণ বেড়ে যাবে এবং দীর্ঘদিনের পণ্য বাণিজ্যে ভারতের উদ্বৃত্ত কার্যত মুছে যাবে।

তিনি তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ও অন্যান্য পরিষেবা খাতে ভারতের রপ্তানি নিয়েও অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, ভারতের পণ্য রপ্তানির উপর আগের তুলনায় বেশি শুল্ক আরোপ করা হবে। কটাক্ষের সুরে কংগ্রেস নেতা বলেন, সব আলিঙ্গন আর ফটোর পরও খুব একটা লাভ হয়নি। ‘নমস্তে ট্রাম্প’ জিতে গেল ‘হাউডি মোদি’-র বিরুদ্ধে। ‘দোস্ত দোস্ত না রাহা’।”

অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের উপর আরোপিত অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার করেছে। তবে একই সঙ্গে ভারতীয় পণ্যের উপর ১৮ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এর আওতায় থাকবে বস্ত্র ও পোশাক, চামড়া ও জুতো, প্লাস্টিক ও রাবার, অর্গানিক কেমিক্যাল, হোম ডেকর, হস্তশিল্প এবং কিছু যন্ত্রাংশ।

চুক্তি অনুযায়ী, ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সব শিল্পপণ্যের উপর এবং ড্রাইড ডিস্টিলার্স গ্রেইনস, পশুখাদ্যের জন্য লাল জোয়ার, বাদাম, তাজা ও প্রক্রিয়াজাত ফল, সয়াবিন তেল, ওয়াইন ও মদের মতো বহু কৃষি ও খাদ্যপণ্যের উপর শুল্ক কমাবে বা তুলে নেবে।

যদি অন্তর্বর্তী চুক্তি সম্পূর্ণভাবে কার্যকর হয়, তবে জেনেরিক ওষুধ, রত্ন ও হীরা এবং বিমান যন্ত্রাংশের মতো একাধিক ভারতীয় পণ্যের উপর পারস্পরিক শুল্ক তুলে নেবে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি ভারত থেকে আমদানি করা কিছু বিমান ও বিমান যন্ত্রাংশের উপর আরোপিত শুল্কও প্রত্যাহার করা হবে।

দুই দেশই বাণিজ্যে প্রতিবন্ধক অ-শুল্ক বাধা দূর করার বিষয়ে একমত হয়েছে। ভারত মার্কিন চিকিৎসা সরঞ্জামের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান করবে, যাতে সেগুলি ভারতীয় বাজারে সহজে প্রবেশ করতে পারে। এছাড়া মার্কিন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পণ্যের ক্ষেত্রে আমদানি লাইসেন্স সংক্রান্ত কড়াকড়ি শিথিল করা হবে।

খাদ্য ও কৃষিপণ্যের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের অভিযোগ মেটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারত। আগামী পাঁচ বছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলারের জ্বালানি, বিমান ও যন্ত্রাংশ, মূল্যবান ধাতু, প্রযুক্তিপণ্য এবং কোকিং কয়লা কেনার পরিকল্পনাও জানানো হয়েছে।

এছাড়া ডেটা সেন্টারে ব্যবহৃত গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট (জিপিইউ)-সহ বিভিন্ন প্রযুক্তি পণ্যের বাণিজ্য বাড়ানো এবং যৌথ প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উভয় দেশই ভবিষ্যতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (বিটিএ) নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে বলে জানিয়েছে। এই আলোচনায় ভারতের পণ্যের উপর শুল্ক আরও কমানোর অনুরোধ বিবেচনা করবে যুক্তরাষ্ট্র।

Leave a Reply