সুপারপাওয়ার অন্যদের ভয় দেখায়, আমরা তা হতে চাই না : মোহন ভাগবত

মুম্বই, ৭ ফেব্রুয়ারি : ভারত কখনও সুপারপাওয়ার হতে চায় না। কারণ সুপারপাওয়ার মানেই অন্যদের ভয় দেখানো ও আধিপত্য কায়েম করা। শনিবার মুম্বইয়ে আরএসএস-এর চতুর্থ বক্তৃতা পর্ব “ব্যাখ্যানমালা—সংঘ যাত্রার ১০০ বছর” শীর্ষক অনুষ্ঠানে এমনই মন্তব্য করলেন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত।

ভাষণে কোনও দেশের নাম না করেই বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতে একটি প্রভাবশালী শক্তির ভূমিকার দিকে ইঙ্গিত করে ভাগবত বলেন, আমরা সুপারপাওয়ার হতে চাই না। সুপারপাওয়ার অন্যদের ভয় দেখায়। আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, একটি সুপারপাওয়ার কী করছে। আমরা এমন শক্তি হতে চাই না, যে অন্যদের উপর আধিপত্য বিস্তার করে।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, ভারতের লক্ষ্য ‘সুপারপাওয়ার’ হওয়া নয়, বরং ‘বিশ্বগুরু’ হয়ে ওঠা। ভাগবতের কথায়, আমরা বিশ্বগুরু হতে চাই। আমরা ভিতর থেকে নেতৃত্ব দিতে চাই এবং এমনকি উদাহরণ সৃষ্টি করে নেতৃত্ব দিতে চাই।

জাতীয় পরিচয় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারতকে কেবল ভৌগোলিক সীমানার নিরিখে দেখা উচিত নয়। ভারত কোনও ভৌগোলিক নাম নয়, এটি একটি সভ্যতাগত চরিত্রের নাম, বলেন ভাগবত। তাঁর মতে, ভারতের পরিচয়ের মূল ভিত্তি তার চিরন্তন সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ, যা সময় ও সীমারেখা অতিক্রম করে টিকে রয়েছে।

ধর্মনিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে প্রচলিত রাজনৈতিক ধারণারও সমালোচনা করেন আরএসএস প্রধান। তিনি বলেন, ধর্মনিরপেক্ষতা শব্দটি সঠিক নয়। এর পরিবর্তে ‘পন্থ-নিরপেক্ষতা’ বলা উচিত, কারণ ধর্ম জীবনের ভিত্তি। ভাগবতের ব্যাখ্যায়, ভারতীয় পরম্পরায় ‘ধর্ম’ কেবল উপাসনার বিষয় নয়, বরং নৈতিকতা ও সভ্যতার ভিত্তি।

এই অনুষ্ঠানে শিল্প, চলচ্চিত্র, গণমাধ্যম ও জনজীবনের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব উপস্থিত ছিলেন। শিল্পপতিদের মধ্যে ছিলেন রাধাকিষাণ দামানি, অজয় পিরামল, দীপক পারেখ, সাজ্জন জিন্দাল, নীলেশ শাহ এবং আশিসকুমার চৌহান।

চলচ্চিত্র ও বিনোদন জগতের প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সলমন খান, হেমা মালিনী, রণবীর কাপুর, রনি স্ক্রুওয়ালা, সুভাষ চন্দ্র, বনি কাপুর, আদনান সামি, ওম রাউত, নীতেশ তিওয়ারি, মোহিত সুরি, রমেশ তৌরানি, বিপুল শাহ, প্রসাদ ওক ও ইন্দ্র কুমার।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আধ্যাত্মিক নেতা স্বামী স্বরূপানন্দ, লেখক অক্ষত গুপ্ত এবং ইজরায়েল, যুক্তরাজ্য ও ইতালির কূটনীতিক প্রতিনিধিরা। উল্লেখ্য, মুম্বইয়ে চলমান এই বক্তৃতা সিরিজে আরএসএস প্রধান ধারাবাহিকভাবে ভারতের সভ্যতাগত পরিচয়, শাসন দর্শন এবং আন্তর্জাতিক ও ভূ-রাজনৈতিক পরিসরে ভারতের ভূমিকা নিয়ে সংগঠনের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরছেন।