২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে মূল্যস্ফীতি ২.১ শতাংশে নামবে বলে পূর্বাভাস আরবিআইয়ের

নয়াদিল্লি, ৬ ফেব্রুয়ারি : রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) শুক্রবার জানিয়েছে, চলতি অর্থবর্ষ ২০২৫-২৬ সালে খুচরো মূল্যস্ফীতি গড়ে ২.১ শতাংশে থাকবে বলে তাদের অনুমান। তবে একই সঙ্গে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, জ্বালানি দামের অস্থিরতা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার ঘটনাকে সম্ভাব্য ঊর্ধ্বমুখী ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।

মৌদ্রিক নীতি সংক্রান্ত বিবৃতি পেশ করতে গিয়ে আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা বলেন, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) ভিত্তিক মূল্যস্ফীতি তুলনামূলকভাবে নিম্ন স্তরে ছিল, যদিও সামান্য ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের মতে, অর্থবর্ষের শেষ ত্রৈমাসিকে মূল্যস্ফীতির গতিপথে কিছু পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।

আরবিআই জানিয়েছে, গোটা বছরের গড় মূল্যস্ফীতি যেখানে ২.১ শতাংশ ধরা হয়েছে, সেখানে ২০২৬ সালের জানুয়ারি- মার্চ ত্রৈমাসিকে মূল্যস্ফীতি ৩.২ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। গভর্নর স্পষ্ট করেন, এই বৃদ্ধি মূলত প্রযুক্তিগত কারণে, কারণ আগের বছরের একই সময়ে দামের তীব্র পতনের ফলে বেস ইফেক্ট প্রতিকূল হয়েছে।

আগামী অর্থবর্ষ ২০২৬-২৭-এর দিকে তাকিয়ে আরবিআই জানিয়েছে, প্রথম ত্রৈমাসিকে মূল্যস্ফীতি ৪ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ৪.২ শতাংশ হতে পারে। গভর্নর বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতির যে সামান্য বৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে, তার প্রধান কারণ খাদ্যপণ্যের দামে মন্দাভাবের গতি ধীর হওয়া। অস্থির উপাদান যেমন সোনা বাদ দিলে কোর মূল্যস্ফীতি প্রায় ২.৬ শতাংশের কাছাকাছি স্থিতিশীল রয়েছে।

খাদ্যপণ্যের দামের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী আরবিআই জানিয়েছে, ভালো খরিফ উৎপাদন, পর্যাপ্ত খাদ্যশস্যের বাফার মজুত এবং সন্তোষজনক জলাধারের স্তর পরিস্থিতিকে সহায়তা করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের মতে, মূল্যবান ধাতুর দামে বড় ধরনের অস্থিরতা না থাকলে কোর মূল্যস্ফীতি একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই থাকবে। তবে ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও জ্বালানি দামের ওঠানামা ঝুঁকি হিসেবেই থেকে যাচ্ছে।

অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে আরবিআই আগামী অর্থবর্ষ ২০২৬-২৭-এর প্রথম দুই ত্রৈমাসিকের জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস ঊর্ধ্বমুখী সংশোধন করেছে। ২০২৬-২৭-এর প্রথম ত্রৈমাসিকে প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধির হার ৬.৯ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে ৭ শতাংশ হবে বলে অনুমান করা হয়েছে। গত ডিসেম্বরের নীতিগত বৈঠকে এই হার যথাক্রমে ৬.৭ শতাংশ ও ৬.৮ শতাংশ ধরা হয়েছিল।

গভর্নর জানান, পুরো ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বৃদ্ধির পূর্বাভাস এপ্রিল মাসের নীতিগত বৈঠকে ঘোষণা করা হবে, কারণ চলতি মাসের শেষে নতুন জিডিপি সিরিজ প্রকাশিত হবে এবং সেটি মূল্যায়নের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

মালহোত্রা বলেন, ভারতীয় অর্থনীতি ধীরে ধীরে উন্নতির পথে রয়েছে। চলতি অর্থবর্ষে প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধি ৭.৪ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যা আগের বছরের তুলনায় বেশি। তিনি জানান, বৈশ্বিক প্রতিকূলতা সত্ত্বেও ব্যক্তিগত ভোগব্যয় ও স্থায়ী বিনিয়োগ অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে সমর্থন করছে, যদিও আমদানি রফতানির তুলনায় বেশি হওয়ায় বৈদেশিক চাহিদা এখনও চাপ সৃষ্টি করছে।

সরবরাহের দিক থেকে প্রকৃত মোট মূল্য সংযোজন (জিভিএ) বৃদ্ধির হার ৭.৩ শতাংশ হবে বলে অনুমান করা হয়েছে, যেখানে পরিষেবা খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্স এবং উৎপাদন ক্ষেত্রে পুনরুজ্জীবন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে।

ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে আরবিআই জানিয়েছে, অর্থনৈতিক কার্যকলাপ স্থিতিশীল থাকবে বলেই আশা করা হচ্ছে। পর্যাপ্ত জলাধার ও শক্তিশালী রবি বপনের ফলে কৃষিক্ষেত্রের সম্ভাবনা ভালো। কর্পোরেট ফলাফলের উন্নতি ও অসংগঠিত ক্ষেত্রের গতি বজায় থাকায় উৎপাদন খাত উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে। নির্মাণ ক্ষেত্রও শক্তিশালী থাকবে এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির জেরে পরিষেবা খাতের স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।

গভর্নর আরও জানান, গ্রামীণ চাহিদা কৃষিকাজ ও শ্রমবাজারের উন্নতির ফলে স্থিতিশীল রয়েছে, অন্যদিকে জিএসটি যুক্তিকরণ ও সুদের হার নরম হওয়ার প্রভাবে শহুরে ভোগব্যয় আরও বাড়তে পারে। পাশাপাশি, উচ্চ উৎপাদন সক্ষমতার ব্যবহার, ব্যাঙ্ক ঋণের বৃদ্ধি, সহায়ক আর্থিক পরিস্থিতি এবং পরিকাঠামোতে সরকারের অব্যাহত জোর বিনিয়োগের গতি আরও বাড়াবে বলে আরবিআই মনে করছে।