ত্রিপোলি/তেহরান, ১ ফেব্রুয়ারি : যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর পশ্চিম এশিয়ায় পৌঁছানোর পর ইরান হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে সামরিক মহড়া শুরু করেছে। হরমুজ প্রণালী—a সংকীর্ণ জলপথ—যেখানে সামান্য অস্থিরতাও বিশ্ব জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক জলপথ পরিবহন ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। কৌশলগত এই অবস্থানের সুযোগ নিয়ে ইরান ফেরো মাত্রায় তৎপরতা বাড়িয়েছে বলে সামরিক বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন।
ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই কর্তৃক ঘোষিত নৌবাহিনী “লাইভ ফায়ার ড্রিল” রবিবার এবং সোমবার হরমুজ প্রণালীতে শুরু হয়েছে। এতে সরাসরি গোলাবর্ষণ, যুদ্ধকাশ্চাপ্রচলন ও নৌসেনা প্রশিক্ষণের কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে দক্ষিণ চিন সাগর থেকে যাত্রা শুরু করে পশ্চিম এশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিল। নিমিটজ-শ্রেণির এই রণতরীর সঙ্গে তিনটি আর্লে বার্ক-শ্রেণির বিধ্বংসী জাহাজও ছিল। গত সপ্তাহে তারা ইরানের উপকূলের কাছে অবস্থান নিয়েছে। এই আবহেই ইরান কেন্দ্রীয়ভাবে হরমুজ প্রণালীতে সামরিক মহড়া পরিচালনা করছে।
সামরিক পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেছেন, হরমুজ প্রণালী এমন এক জায়গা যেখানে সামান্য উত্তেজনাই আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যিক শিপিংয়ে গুরুতর বিঘ্ন তৈরি করতে পারে। তাই ইরান নিজের কৌশলগত প্রাধান্য ধরে রাখতে এবং মার্কিন চাপের জবাবে এই মহড়া চালাচ্ছে বলে তারা মনে করেন।
ইরানের অভ্যন্তরেও অচলচিত্র বিরাজ করছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভে দেশটিতে প্রায় ১০,০০০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে সরকারি ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছেন। কিছু সংগঠনের দাবি, ১৫,০০০-এর বেশি বিক্ষোভকারী নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন, যা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।
ইরানের সামরিক মহড়া শুরু হওয়ায় পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা তীব্র হওয়ার আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক শক্তির মধ্যে উত্তেজনা নতুন মোড় নিচ্ছে, এবং বিশ্ব রাজনীতিতে এর প্রভাব কী হবে—তা এখনই পরিবেশিত ঘটনার পর্যালোচনার অন্যতম কেন্দ্রে রয়েছে।

