ডিব্রুগড়ে ১,৭১৫ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের সূচনা, দ্বিতীয় বিধানসভা ভবনের শিলান্যাস করলেন অমিত শাহ

ডিব্রুগড়, ৩০ জানুয়ারি : কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আজ অসমের ডিব্রুগড়ে ১,৭১৫ কোটি টাকার একাধিক উন্নয়ন প্রকল্পের সূচনা করেন। এর মধ্যে রয়েছে দ্বিতীয় বিধানসভা ভবন কমপ্লেক্স নির্মাণের শিলান্যাস।

ডিব্রুগড়ে এক জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে অমিত শাহ বলেন, ভারত–ইউরোপীয় ইউনিয়ন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি অসমের চা ইউরোপের বাজারে রফতানিতে বড় সহায়তা করবে। তিনি দাবি করেন, অসমকে বন্যামুক্ত করতে কেন্দ্র একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে উন্নয়ন, শান্তি, নিরাপত্তা, শিল্পোন্নয়ন ও বন্যামুক্ত অসম গঠনের লক্ষ্যে বিজেপিকে সমর্থনের আহ্বান জানান তিনি।

প্রাক্তন কংগ্রেস সরকারগুলির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে শাহ বলেন, কংগ্রেস দীর্ঘদিন অসমকে অবহেলা করেছে এবং অনুপ্রবেশকে ভোটব্যাঙ্ক রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্র অসমের উন্নয়নের জন্য বড় বড় পরিকাঠামো প্রকল্প এনেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আগে অসম হিংসা ও অশান্তির জন্য পরিচিত ছিল, এখন বিজেপি সরকারের আমলে রাজ্য শান্তি ও উন্নয়নের জন্য পরিচিত—এমন মন্তব্যও করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বিশেষ করে আপার অসমের মানুষের জন্য আজকের দিনটি ঐতিহাসিক। ডিব্রুগড়ে গড়ে ওঠা অসম বিধানসভার দ্বিতীয় কমপ্লেক্স প্রশাসনিক পরিকাঠামোকে আরও শক্তিশালী করবে।

এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল সহ একাধিক গণ্যমান্য ব্যক্তি। শাহ ২৮৪ কোটি টাকার দ্বিতীয় বিধানসভা ভবন ও বিধায়ক হস্টেল প্রকল্পের শিলান্যাস করেন। ডিব্রুগড়কে রাজ্যের দ্বিতীয় প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগের অংশ এটি। প্রকল্পে থাকবে তিনতলা বিধানসভা ভবন, নয়তলা বিধায়ক হস্টেল, ৮০০ আসনের অডিটোরিয়াম এবং নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যারাক।

এছাড়া ২৩৮ কোটি টাকার আধুনিক বহুমুখী ক্রীড়া কমপ্লেক্সের প্রথম পর্যায়ের উদ্বোধন করেন তিনি এবং ২০৯ কোটি টাকার দ্বিতীয় পর্যায়ের শিলান্যাস করেন। প্রথম পর্যায়ে রয়েছে ইনডোর স্টেডিয়াম, সুইমিং পুল, ফুটবল মাঠ, মূল গ্যালারি, টেনিস, ভলিবল ও বাস্কেটবল কোর্ট এবং হস্টেল। দ্বিতীয় পর্যায়ে ৩০ হাজার দর্শক আসন, কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ এবং অ্যাথলেটিক্স ট্র্যাক তৈরি হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২৯২ কোটি টাকার বন্যপ্রাণ স্বাস্থ্য ও গবেষণা কেন্দ্রের শিলান্যাসও করেন। বন্যপ্রাণীর চিকিৎসা, উন্নত পরীক্ষাগার সুবিধা ও প্রশিক্ষণ ইউনিট স্থাপনের মাধ্যমে বনকর্মী, পশুচিকিৎসক ও গবেষকদের মধ্যে সমন্বয় বাড়বে।

এছাড়া জাতীয় বিপর্যয় প্রশমন তহবিলের অধীনে ৬৯২ কোটি টাকার জলাভূমি পুনরুদ্ধার ও পুনর্জীবন প্রকল্পের সূচনাও করেন শাহ। ব্রহ্মপুত্র অববাহিকায় নগর বন্যার ঝুঁকি কমানো, জলধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বন্যা ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে নয়টি জেলার বৈজ্ঞানিকভাবে নির্বাচিত ১৫টি জলাভূমি পুনরুদ্ধার করা হবে।

ডিব্রুগড় সফরের পর শাহ প্রতিবেশী ধেমাজি জেলায় গিয়ে মিসিং সম্প্রদায়ের বৃহৎ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ‘তাকাম মিসিং পরিন কেবাং’ যুব উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেবেন। সেখানে বিজেপি কর্মীদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন তিনি।

দিনের শেষে তিনি গুয়াহাটি গিয়ে রাজ্য বিজেপি দফতরে দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। অসম সফর শেষে সন্ধ্যায় পশ্চিমবঙ্গের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।

Leave a Reply