চণ্ডীগড় পুরসভা নির্বাচনে টানা চতুর্থবার বিজেপির জয়, মেয়র নির্বাচিত সৌরভ যোশি

চণ্ডীগড়, ২৯ জানুয়ারি: চণ্ডীগড় মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের মেয়র পদে টানা চতুর্থবার জয় ধরে রাখল বিজেপি। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত মেয়র নির্বাচনে বিজেপি কাউন্সিলর সৌরভ যোশি ৩৬ সদস্যের সভায় ১৮টি ভোট পেয়ে মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন। এটি কর্পোরেশনের বর্তমান পাঁচ বছরের মেয়াদের শেষ মেয়র নির্বাচন, কারণ চলতি বছরের ডিসেম্বরেই এই মেয়াদ শেষ হচ্ছে।

একই সঙ্গে বিজেপি কাউন্সিলর সুমন শর্মা ডেপুটি মেয়র এবং যশমনপ্রীত সিং সিনিয়র ডেপুটি মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। তিনজনই ১৮টি করে ভোট পান।

এই নির্বাচনে আম আদমি পার্টির (আপ ) প্রার্থী যোগেশ ধিংরা পান ১১টি ভোট, আর কংগ্রেস প্রার্থী গুরপ্রীত সিং গাব্বি পান ৭টি ভোট।

এর আগে একাধিক নির্বাচনে কংগ্রেস ও আপ একসঙ্গে লড়াই করলেও এবার দুই দল আলাদাভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। ২০২৪ সালের মেয়র ও লোকসভা নির্বাচনের আগে চণ্ডীগড়ে কংগ্রেস ও আপ জোটবদ্ধ হয়েছিল, যার ফলে তারা সেবার সাফল্য পেয়েছিল। তবে ২০২৫ সালের মেয়র নির্বাচনে সেই জোট ভেঙে যাওয়ায় বিজেপির কাছে পরাজিত হতে হয় উভয় দলকেই।

৩৫ সদস্যের নির্বাচিত হাউসে বিজেপির রয়েছে ১৮ জন কাউন্সিলর, আপ -এর ১১ জন এবং কংগ্রেসের ৬ জন। এ ছাড়াও স্থানীয় কংগ্রেস সাংসদ মনীশ তিওয়ারি একজন এক্স-অফিসিও সদস্য হিসেবে ভোট দেওয়ার অধিকার রাখেন। এই হাউসে কোনও অ্যান্টি-ডিফেকশন আইন নেই।

উল্লেখযোগ্যভাবে, গত চার বছরে তিনবারই স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকা সত্ত্বেও বিজেপি মেয়র পদে জয় পেয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, অতীতে ক্রস ভোটিং, দল বদল এবং ‘হর্স-ট্রেডিং’-এর মাধ্যমেই এই সাফল্য এসেছে।

গত মাসে বিজেপির শক্তি বেড়ে ১৮-এ পৌঁছয়, যখন আপ -এর দুই কাউন্সিলর পুনম ও সুমন শর্মা বিজেপিতে যোগ দেন।

এবারের মেয়র নির্বাচন আগের তুলনায় ব্যতিক্রমী ছিল। আগের বছরগুলিতে গোপন ব্যালটে ভোট হত, যেখানে ক্রস ভোটিংয়ের ঘটনা প্রায়ই দেখা যেত। তবে এবার হাত তুলে ভোটাভুটির মাধ্যমে নির্বাচন সম্পন্ন হয়। গত বছরের জুলাই মাসে চণ্ডীগড় প্রশাসক গুলাব চাঁদ কাটারিয়ার অনুমোদনে চণ্ডীগড় মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (কার্যপ্রণালি ও কার্য পরিচালনা) বিধি, ১৯৯৬-এর রেগুলেশন ৬ সংশোধন করা হয়, যার উদ্দেশ্য ছিল ক্রস ভোটিং ও ব্যালট কারচুপি রোধ করা।

Leave a Reply