ইউজিসি ইকুইটি বিধি চ্যালেঞ্জে আর্জির জরুরি শুনানিতে রাজি সুপ্রিম কোর্ট

নয়াদিল্লি, ২৮ জানুয়ারি : উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৈষম্য রোধে প্রণীত ইউনিভার্সিটি গ্রান্টস কমিশন (প্রোমোশন অফ ইকুইটি ইন হায়ার এডুকেশন ইনস্টিটিউশনস) রেগুলেশনস, ২০২৬–এর সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া একটি মামলার জরুরি তালিকাভুক্তি বিবেচনায় নিতে সম্মত হয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি (সিজেআই) সূর্য কান্ত আবেদনকারী পক্ষকে পিটিশনের ত্রুটিগুলি দ্রুত সংশোধন করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে দ্রুত শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা যায়।

সামাজিক কর্মী ও উদ্যোক্তা রাহুল দেওয়ানের পক্ষে আইনজীবী পার্থ যাদব বিষয়টি প্রধান বিচারপতির সামনে উত্থাপন করেন। তাঁর দাবি, নতুন বিধির প্রয়োগে বৈষম্যের আশঙ্কা রয়েছে এবং বিষয়টি দ্রুত বিচারিক পর্যালোচনার প্রয়োজন।

দেওয়ানের আবেদনসহ অন্তত তিনটি পিটিশন ইতিমধ্যেই ইউজিসির ২০২৬ সালের ইকুইটি বিধিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছেছে। এই আবেদনগুলির মধ্যে একটি দায়ের করেছেন বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্ট-ডক্টরাল গবেষক মৃত্যুঞ্জয় তিওয়ারি এবং অন্যটি করেছেন আইনজীবী বিনীত জিন্দাল। উল্লেখ্য, ইউজিসি ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে এই নতুন বিধি জারি করে, যা ২০১২ সালের পুরনো কাঠামোকে প্রতিস্থাপন করেছে।

পিটিশনগুলিতে বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে রেগুলেশন ৩(সি)–কে। সেখানে “কাস্ট-ভিত্তিক বৈষম্য” বলতে তফসিলি জাতি, তফসিলি উপজাতি ও অনগ্রসর শ্রেণি-র সদস্যদের বিরুদ্ধে কেবলমাত্র জাতিগত ভিত্তিতে বৈষম্যকে বোঝানো হয়েছে। আবেদনকারীদের অভিযোগ—

সংজ্ঞাটি একমুখী বৈষম্যের ধারণা দেয়, সাধারণ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের সুরক্ষার বাইরে রাখে, পর্যাপ্ত সুরক্ষা ছাড়াই দোষের পূর্বধারণা তৈরি করে।

জিন্দালের পিটিশনে দাবি, এই ধারা স্বেচ্ছাচারী, বৈষম্যমূলক এবং মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী; এমনকি ইউজিসি আইন, ১৯৫৬–এর সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। বিকল্প হিসেবে “কাস্ট-নিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক” সংজ্ঞা গ্রহণের আর্জি জানানো হয়েছে।

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান আশ্বাস দিয়েছেন, বিধির অপব্যবহার হবে না। তাঁর বক্তব্য, “কাউকে হেনস্তা করা হবে না, বৈষম্য চলবে না, এবং সংবিধানের সীমার মধ্যেই বিধি কার্যকর হবে।”

সরকারি সূত্রের দাবি, সংবিধান প্রান্তিক সম্প্রদায়ের সুরক্ষায় রাষ্ট্রকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছে বলেই এসসি, এসটি ও ওবিসি-র উল্লেখ রয়েছে। তবে অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা সব ছাত্র, শিক্ষক ও কর্মীদের জন্য উন্মুক্ত।

নতুন ইকুইটি বিধি অনুযায়ী প্রতিটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১০ সদস্যের একটি ইকুইটি কমিটি গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি সমান সুযোগ কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। বৈষম্য সংক্রান্ত অভিযোগ দ্রুত মোকাবিলার জন্য ইকুইটি স্কোয়াড গঠন, ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন চালু রাখা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইকুইটি অ্যাম্বাসাডর নিয়োগের কথাও বলা হয়েছে। সব ধরনের অভিযোগ নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রান্তিক ছাত্র সংগঠনগুলি বিধিকে স্বাগত জানালেও, একাংশ সাধারণ ও উচ্চবর্ণ ছাত্র সংগঠন নিয়মগুলিকে অস্পষ্ট ও অপব্যবহারের আশঙ্কাজনক বলে দাবি করছে। ইউজিসি দফতরের সামনে প্রতিবাদও হয়েছে।

এখন নজর সুপ্রিম কোর্টের দিকে—পিটিশনের ত্রুটি সংশোধনের পর মামলাটি কবে শুনানিতে ওঠে, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a Reply