মধ্যপ্রদেশে বৃষ্টি–শিলাবৃষ্টির দাপট, ক্ষতির আশঙ্কায় চাষিরা উদ্বিগ্ন

ভোপাল, ২৮ জানুয়ারি: সক্রিয় ঘূর্ণাবর্ত ও ট্রাফ লাইনের প্রভাবে মধ্যপ্রদেশ জুড়ে ফের আবহাওয়ার বড়সড় পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। সোমবারই ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (আইএমডি) ভোপাল ও গ্বালিয়র-সহ রাজ্যের ২৮টি জেলায় সতর্কতা জারি করেছিল। আগামী দু’দিন এই আবহাওয়া পরিস্থিতি বজায় থাকবে বলে জানানো হয়েছে। আকাশ মেঘলা থাকার পাশাপাশি বহু জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, এই বৃষ্টির দফা শীতের প্রকোপ আরও বাড়িয়ে তুলবে। ঘন কুয়াশা ও শীতল বাতাস পরিস্থিতিকে আরও অস্বস্তিকর করে তুলতে পারে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মধ্যপ্রদেশের একাধিক জেলায় আচমকা বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি শুরু হয়। সেহোর, আগর মালওয়া, শাজাপুর, গ্বালিয়র ও উজ্জয়িনীতে হঠাৎ আবহাওয়ার পরিবর্তনে সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েন। সেহোর জেলার সেহোর শহর, আস্থা, জাওয়ার, মেহতওয়াদা ও শ্যামপুর এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভোপালেও সন্ধ্যায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হয়।

জাওয়ার ও হিঙ্গোনি গ্রামে ছোলার দানার আকারের শিলাবৃষ্টি হয়। রাস্তা সাদা হয়ে যায় শিলায়, আর মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা গম ও ছোলার ফসল মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। চাষিদের আশঙ্কা, এর ফলে বড় আর্থিক ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে ফুল ধরা গমের ক্ষেতে জোরালো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টির আঘাতে দানা ঝরে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জাওয়ার এলাকায় প্রায় ২০ মিনিট ধরে প্রবল বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়া চলে, আর প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে শিলাবৃষ্টি হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে গমের খেতে, যেখানে ফসল কার্যত মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে।

চাষিরা জানিয়েছেন, আবহাওয়া আরও খারাপ হলে ক্ষতির পরিমাণ বহুগুণ বাড়তে পারে। ঝড়ের জেরে একাধিক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহও ব্যাহত হয়েছে, ফলে বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বেড়েছে।

ইতিমধ্যেই তীব্র শীতের সঙ্গে লড়াই করছিলেন চাষিরা। তার মধ্যেই এই অকাল বৃষ্টি ও শিলাবৃষ্টি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিন আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে—যা ফসলের পক্ষে বিশেষভাবে ক্ষতিকর হতে পারে, কারণ এই সময়টিই শস্যের বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়।

Leave a Reply