আগরতলা, ২৮ জানুয়ারি : জনজাতি ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও ত্রিপুরা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডঃ মানিক সাহার সদিচ্ছায় সাব্রুম মহকুমার লুধুয়া চা বাগান এলাকায় নির্মিত হয় একলব্য আবাসিক বিদ্যালয়। পাহাড়ি ও জনজাতি অধ্যুষিত এলাকার দরিদ্র অথচ মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের উন্নত ও মানসম্মত আবাসিক শিক্ষা দেওয়াই ছিল এই বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু বাস্তবে সেই স্বপ্ন আজ দুর্নীতির অভিযোগে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
সূত্রের খবর, ২০২১ সালে শুরু হওয়া এই সুবিশাল আবাসিক বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ ২০২৩ সালে সম্পূর্ণ হয়। তবে বিদ্যালয় চালু হওয়ার মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই একের পর এক নির্মাণ ত্রুটি প্রকাশ্যে আসতে শুরু করে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের বাথরুমের ছাদ ভেদ করে জল চুঁইয়ে পড়ছে—যার বিষয়টি স্বয়ং বিদ্যালয়ের অধ্যক্ষও স্বীকার করেছেন। পাশাপাশি, একাধিক প্রধান কংক্রিট কলামে স্পষ্ট ফাটল ধরা পড়েছে, যা নির্মাণের গুণগত মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ত্রুটিগুলি আড়াল করতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি সংস্থা তড়িঘড়ি করে ভবনের অংশবিশেষ অর্ধেক পর্যন্ত রং করে ঢাকার চেষ্টা চালায়। এলাকাবাসীর মতে, এটি কার্যত “শাক দিয়ে মাছ ঢাকার” সামিল।
অভিযোগ আরও গুরুতর আকার নিয়েছে। জানা যাচ্ছে, বিদ্যালয় নির্মাণ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ও নির্মাণসামগ্রী আত্মসাৎ করেছে। জনজাতি শিক্ষার উন্নয়নের নামে বরাদ্দ হওয়া অর্থ কার্যত কিছু অসাধু ব্যক্তির পকেটে চলে গিয়েছে বলেই অভিযোগ উঠেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হল, এই দুর্নীতির তথ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসার আগেই মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সংবাদমাধ্যমকে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টা চালানো হয় বলে অভিযোগ। তবে সাব্রুমের সংবাদমাধ্যম এই চাপের কাছে মাথা নত করেনি। তাদের বক্তব্য, রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়ার কোনও চক্রান্তই মেনে নেওয়া হবে না।
এই ঘটনাকে ঘিরে গোটা সাব্রুম জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষের একটাই দাবি—এই দুর্নীতির ঘটনার অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত হোক। দোষীদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার স্বচ্ছ ও উন্নয়নমুখী শিক্ষা উদ্যোগ যেন দুর্নীতির কালো ছায়ায় কলুষিত না হয়—এটাই এখন সাব্রুমবাসীর জোরালো দাবি।

