কলকাতা, ২৭ জানুয়ারি:
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে নবান্নে বৈঠকের পর বিজেপি-বিরোধী রাজনীতিতে তাঁকেই দেশের প্রধান মুখ হিসেবে তুলে ধরলেন সমাজবাদী পার্টির সভাপতি তথা উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদব। প্রায় ৪৫ মিনিটের বৈঠকের পর মমতাকে পাশে নিয়েই অখিলেশ বলেন, “গোটা দেশে কেউ যদি বিজেপিকে মোকাবিলা করে থাকেন, তা হলে সেটা করছেন এখানকার মুখ্যমন্ত্রী।”
রাজনৈতিক মহলে এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, অখিলেশের বক্তব্যে শুধু মমতার প্রশংসাই নয়, পরোক্ষে কংগ্রেসের বিজেপি-বিরোধী ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠে এসেছে। বিভিন্ন আঞ্চলিক দল আগেই কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘দাদাগিরি’র অভিযোগ তুলেছে। বিহারের আসন সমঝোতার সময়েও সেই ইস্যু সামনে এসেছিল। অখিলেশের মন্তব্যে সেই অসন্তোষেরই প্রতিফলন দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
ঘটনাচক্রে, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও সম্প্রতি একাধিক সভায় অভিযোগ করেছেন, হরিয়ানা, দিল্লি, মহারাষ্ট্র ও বিহারের মতো রাজ্যে ভোটার তালিকায় কারচুপি না হলে বিজেপি জিততে পারত না। অখিলেশের বক্তব্যেও ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে সংশয়ের সুর স্পষ্ট।
১২টি রাজ্যে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া চালাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। সেই তালিকায় উত্তরপ্রদেশও রয়েছে। অখিলেশের দাবি, এই প্রক্রিয়ায় প্রায় তিন কোটি মানুষের নাম বাদ পড়েছে। তাঁর অভিযোগ, “এত দিন কমিশনের লক্ষ্য ছিল বেশি সংখ্যক মানুষকে ভোটার করা। এখন উল্টোভাবে ভোটারদের নাম কাটার দিকেই জোর দেওয়া হচ্ছে।” তাঁর আরও দাবি, পশ্চিমবঙ্গকে বিশেষভাবে নিশানা করেই এই পদক্ষেপ।
তৃণমূলের নির্বাচনী পরামর্শদাতা সংস্থা আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি ও দফতরে গত ৮ জানুয়ারি ইডি তল্লাশি চালায়। সেই সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছে একটি সবুজ ফাইল ও কয়েকটি ডিজিটাল ডিভাইস নিয়ে বেরিয়ে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি ছিল, দলের তথ্য ‘চুরি’ করার চেষ্টা হচ্ছিল। সেই প্রসঙ্গ টেনে অখিলেশ বলেন, “কমিশন যখন ভোটচুরি করছে, তখন দিদি ডিজিটাল ডাকাতি রুখে দিয়েছেন। দিদির সাহসকে কুর্নিশ জানাই।”
এর আগেও তিনি মন্তব্য করেছিলেন, “দিদি ইডি-র থেকে পেনড্রাইভ নিয়ে নিয়েছেন। সেই ‘পেন’ বিজেপি ভুলতে পারছে না।”
দু’দিনের সফরে কলকাতায় এসে মঙ্গলবার সকালে কালীঘাট মন্দিরে পুজো দেন অখিলেশ। তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী ও সাংসদ ডিম্পল যাদব এবং রাজ্যসভার সাংসদ জয়া বচ্চন। যদিও নবান্নে মমতার সঙ্গে বৈঠকে তাঁরা উপস্থিত ছিলেন না।
অখিলেশ আশা প্রকাশ করেছেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনেও বিজেপিকে রুখে দিতে পারবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “বিজেপি এখানে লড়াই করছে সম্মানজনক হারের জন্য।”

