বাংলাদেশের ১৫০ সাংবাদিকের বিশ্বকাপ অ্যাক্রেডিটেশন বাতিলের অভিযোগ, নীরব আইসিসি

নয়াদিল্লি, ২৭ জানুয়ারি : বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন অভিযোগ সামনে এল। এ বার বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের দাবি, সে দেশের অন্তত ১৩০ থেকে ১৫০ জন সাংবাদিককে বিশ্বকাপ কভার করার অনুমতি দেয়নি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। এমনকি যাঁদের আগে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের অ্যাক্রেডিটেশনও পরে বাতিল করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন জানান, বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি সাংবাদিক বিশ্বকাপের ম্যাচে উপস্থিত থাকার জন্য আবেদন করেছিলেন, কিন্তু কারও আবেদন মঞ্জুর হয়নি।
আমজাদ হোসেন বলেন, “আমি যত দূর জানি, বাংলাদেশি সাংবাদিকদের অনুমতির আবেদন খারিজ করা হয়েছে। এ বছর ১৩০ থেকে ১৫০ জন সাংবাদিক আবেদন করেছিলেন। কেউ অনুমতি পাননি।”
বাংলাদেশের একাধিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, কয়েকজন সাংবাদিককে প্রথমে অনুমতি দেওয়া হলেও পরে তা বাতিল করা হয়। মীর ফরিদ নামে এক সাংবাদিক জানান, তিনি প্রথমে আইসিসির কাছ থেকে অনুমোদন সংক্রান্ত ইমেল পান।
মীর ফরিদ বলেন, “আইসিসি গত ২০ জানুয়ারি ইমেল মারফত আমাকে অনুমতি দিয়েছিল। সেখানে ভিসা সংক্রান্ত অনুমতিও ছিল। কিন্তু ২৬ জানুয়ারি আরও একটি ইমেল করে সেই অনুমতি বাতিল করা হয়েছে।”
সাধারণত আইসিসির পূর্ণ সদস্য ও সহযোগী সদস্য দেশের সাংবাদিকেরা, তাঁদের দেশ প্রতিযোগিতায় অংশ না নিলেও, বিশ্বকাপ বা অন্যান্য আইসিসি টুর্নামেন্ট কভার করার অনুমতি পেয়ে থাকেন— এমনটাই দাবি বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের। ফুটবল বিশ্বকাপের ক্ষেত্রেও ফিফা একই নীতি অনুসরণ করে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে। তবে বাংলাদেশের সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে সেই নিয়ম মানা হয়নি বলেই অভিযোগ।
১৯৯৯ সাল থেকে বাংলাদেশ নিয়মিত আইসিসি প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। তবে তারও আগে থেকে দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকেরা বিশ্বকাপ কভার করে আসছেন। ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপ থেকে প্রতিটি আইসিসি প্রতিযোগিতায় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক আরিফুর রহমান বাবু। এ বার তিনিও অনুমতি পাননি।
আরিফুর রহমান বলেন,
“যদি দল না-ও খেলে, তা হলেও আইসিসির পূর্ণ সদস্য ও সহযোগী সদস্য দেশের সাংবাদিকদের অনুমতি দেওয়া হয়। কেন আমাদের অনুমতি দেওয়া হল না, সেটাই বুঝতে পারছি না। আমি অবাক হচ্ছি। এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করছি।”
উল্লেখ্য, আরিফুর রহমান বাংলাদেশের ক্রীড়া সাংবাদিকদের সংগঠনের সভাপতি। তিনি জানিয়েছেন, দেশের সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক করা হবে।
এই অভিযোগের বিষয়ে আইসিসির তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply