ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিস’-এ যোগ দেয়নি ভারত, পাকিস্তানে উদ্বেগ

নয়াদিল্লি, ২৬ জানুয়ারি : আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে গঠিত ‘বোর্ড অফ পিস’-এ যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ এখনও গ্রহণ করেনি ভারত। এ বিষয়ে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সিদ্ধান্ত বা প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ভারতের এই নীরবতা পাকিস্তানে কিছুটা উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে জম্মু ও কাশ্মীর বিষয়ক সমস্যার কারণে নয়াদিল্লি সম্ভবত দ্বিধাগ্রস্ত বলে মনে করছেন পাকিস্তানের কিছু সংবাদমাধ্যম।

পাকিস্তানের পত্রিকা একটি রিপোর্টে দাবি করেছে, ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীতে যোগ দিলে কাশ্মীর সমস্যা নিয়ে ট্রাম্প হস্তক্ষেপ করতে পারেন, যা ভারতের জন্য সমস্যা হতে পারে। এর আগে, গত মাসে ট্রাম্প বিভিন্ন দেশকে তার ‘বোর্ড অফ পিস’-এ যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ভারত, পাকিস্তানসহ ৫০টিরও বেশি দেশকে এই চিঠি পাঠানো হয়েছিল। এই বোর্ড প্রথমত গাজার পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা করেছিল এবং পরে বিশ্বের অন্যান্য আঞ্চলিক সমস্যা নিয়েও আলোচনা করবে।

পাকিস্তান, যুক্তরাষ্ট্র, এবং অন্য কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যে ট্রাম্পের এই বোর্ডে যোগ দিয়েছে, তবে ভারতের মতো কিছু দেশ এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। ফ্রান্স এবং সুইডেন এর মধ্যে কয়েকটি দেশ ‘না’ বলেছে। সুইৎজারল্যান্ডের দাভোসে ট্রাম্প ‘বোর্ড অফ পিস’-এর সূচনা করেছিলেন।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমের দাবি, ভারতের কিছু অংশ কাশ্মীরের কারণে ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিস’-এ যোগ দিতে ভয় পাচ্ছে। তারা আশঙ্কা করছেন, ট্রাম্প যদি কাশ্মীর বিষয়ে কোনো শান্তি উদ্যোগ গ্রহণ করেন, তাহলে ভারতের জন্য তা অস্বস্তিকর হতে পারে। এর আগে, ট্রাম্প একাধিক বার কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে হস্তক্ষেপ করতে চেয়েছিলেন, এবং ২০২০ সালের মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’ পরবর্তী সংঘাতের মধ্যেও ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব সমাধানের জন্য কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। তবে ভারত সরকারের অবস্থান স্পষ্ট — তারা আঞ্চলিক বিষয়ে বাইরের দেশের হস্তক্ষেপ বরদাস্ত করবে না।

পর্যবেক্ষকদের মতে, ট্রাম্পের উদ্দেশ্য সম্ভবত রাষ্ট্রপুঞ্জের বিপরীতে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী গড়ে তোলা, যেখানে আমেরিকার একচ্ছত্র আধিপত্য থাকবে। এতে একমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বের ধারণা আরও শক্তিশালী হবে। পাকিস্তান আনুষ্ঠানিকভাবে ট্রাম্পের ‘বোর্ড অফ পিস’-এ যোগ দেওয়ার পর, ভারতের কিছু সংবাদমাধ্যমে লিখিত হয়েছিল যে, এতে পাকিস্তান-মার্কিন ঘনিষ্ঠতা বাড়বে, যা ভারতের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে।

এখনও পর্যন্ত ভারত সরকার ট্রাম্পের বোর্ডে যোগ দেওয়ার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

Leave a Reply