আগরতলা, ২৫ জানুয়ারি: জনজাতি অংশের মানুষের সার্বিক উন্নয়নে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকার। জনজাতিদের সমস্ত দাবিদাওয়া পূরণ করা হবে। ভারতীয় জনতা পার্টি নেতৃত্বাধীন সরকারের শক্তি সম্পর্কে অনেকের বিন্দুমাত্র উপলব্ধি নেই। আর আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে স্বাভাবিক জীবনে এলেও অনেকের মানসিকতার বদল হয়নি।
আজ সিপাহীজলা জেলার বিশ্রামগঞ্জের মাল্টি পারপাস হলে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মন কি বাত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর ডাঃ মানিক সাহা।
মন কি বাত এর ১৩০তম কার্যক্রমে উপস্থিত থেকে মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা বলেন, আমরা প্রতি মাসের শেষ রবিবারে প্রধানমন্ত্রীর মন কি বাত কার্যক্রমের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করি। আজও এর ব্যতিক্রম হয়নি। দেশ বিদেশের বিভিন্ন বিষয়বস্তু সম্পর্কে আজ কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। আজ আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে চড়িলাম মন্ডলে আপনাদের সঙ্গে একসাথে মিলে প্রধানমন্ত্রীর মন কি বাত শ্রবণ করেছি।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যত বাঁধা আসবে ততই ভারতীয় জনতা পার্টি শক্তিশালী হবে। আমাদের সরকারের কি যে শক্তি সেটা অনেকের মধ্যে বিন্দুমাত্র উপলব্ধি নেই। আমরা সবার সাথে ভালোভাবে থাকতে চাই, ভালোভাবে কথা বলতে চাই। যারা কোনসময় আন্ডারগ্রাউন্ডে ছিল তাদেরকে আমরা মূলস্রোতে আনার ব্যবস্থা করেছি। কিন্তু স্বাভাবিক জীবনে আসার পর যে মানসিকতা সেটা একই রয়ে গেছে। তাই আমি তাদেরকে বলবো যে বেশি চালাকি যাতে না করে। আমরা এখনো কিন্তু ভালোভাবে কথা বলছি। আন্দোলনের নাম দিয়ে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া, আন্দোলনের নামে আন্ডারগ্রাউন্ডে থেকে যে কথাগুলি বলছিল এখন মূলস্রোতে এসে বিভিন্ন রূপে বিভিন্ন ফর্মে সুযোগ নিয়ে সেভাবে কথা বলার চেষ্টা করছে। মনে রাখতে হবে কাচের ঘরে থেকে ঢিল মারতে গেলে অন্তত ১০ বার চিন্তা করতে হবে যে আমি কোন জায়গায় আছি। কাজেই খুব সাবধান। আজ প্রধানমন্ত্রীর মন কি বাত সমস্ত বুথে হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, অপরাধের বিরুদ্ধে যারা আওয়াজ না তুলে, কথা না বলে এরচাইতে বড় অপরাধ আর কিছুই হয়না। একটা গরীব ঘরের চাওয়ালা আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনি কোন মহারাজার পরিবার থেকে আসেন নি। একটা প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে এসে আজ দেশের রাষ্ট্রপতি হয়েছেন দ্রৌপদী মুর্মু। এটাই হচ্ছে প্রজাতন্ত্র। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতেই মানুষের কাছে যেতে হবে। কাজ না দিয়ে সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি দিয়ে মানুষের কাছে যাওয়া যায়না। কাজের কাজ কিছু না করে ঘুম থেকে উঠে এক একটা সুড়সুড়ি, এক একটা ইস্যু বের করে। কিন্তু আমাদের কাছে রয়েছেন শক্তিশালী অভিভাবক। তাঁরা হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় জনতা পার্টিটা কি সেটা ত্রিপুরায় এখনো অনেকে বুঝতে পারছেন না। তাই আজকের এই প্ল্যাটফর্ম থেকে আমি বলবো এখনো সময় আছে ভারতীয় জনতা পার্টিকে বুঝে নেওয়ার। কোন অনিয়ম বেনিয়ম এই পার্টিতে কোন অবস্থায় বরদাস্ত করা হবেনা। আর সেভাবেই প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। সমঝদার আদমি কে লিয়ে ইশারায় কাফি হে। আমরা বলছি নতুন ত্রিপুরা গড়ে তোলার কথা। আর সেটা একমাত্র সম্ভব শান্তির মাধ্যমে, যুক্তির মাধ্যমে, কথার মাধ্যমে। আজ পৃথিবীর মধ্যে যদি কেউ সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা থাকেন তবে তিনি হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। কেউ আঘাত করলে যোগ্য প্রত্যুত্তর দিয়েছেন তিনি। যার প্রকৃষ্ট উদাহরণ অপারেশন সিঁদুর। আগামী ২০৪৭ সালে বিকশিত ভারত এর কথা বলছেন প্রধানমন্ত্রী। সেই লক্ষ্যে আমরাও বিকশিত ত্রিপুরা ২০৪৭ এর রূপরেখা তৈরি করেছি।
মন কি বাত কার্যক্রমে অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন, রাজ্যের উপ মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে জিষ্ণু দেববর্মা থাকার সময় এই চড়িলামে সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন হয়েছে। ত্রিপুরার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ভোটে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। রাজ পরিবারের একজন সুযোগ্য সন্তান হিসেবে আজ তাঁকে তেলেঙ্গানার মতো বড় রাজ্যের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে সম্মান জানানো হয়েছে। ডাঃ সাহা বলেন, জনজাতিরা এখন বুঝতে পারছেন যে ভারতীয় জনতা পার্টির মতো জাতীয় দল ছাড়া জনজাতিদের উন্নয়ন আর কেউ করবে না। তাই বুঝতে হবে। আমরা সবাই একসঙ্গে থাকতে চাই। জনজাতিদের উন্নয়নে এই সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের সরকার একবার এডিসিতে আসলে সবকিছু হবে। ছলচাতুরি করে উল্টোপাল্টা বুঝিয়ে বিভ্রান্ত করে কিছু হবেনা।
এই উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির প্রদেশ সাধারণ সম্পাদক বিপিন দেববর্মা, মন কি বাত কার্যক্রমের প্রদেশ ইনচার্জ রতন ঘোষ, সিপাহীজলা জেলার জেলা সভাধিপতি সুপ্রিয়া দাস দত্ত, টিআইডিসির চেয়ারম্যান নবাদল বণিক, চড়িলাম মন্ডলের সভাপতি তাপস দাস সহ দলের অন্যান্য নেতৃত্ব ও কার্যকর্তাগন।

