ডাব্লিউইএফ ২০২৬-এ সেমিকন্ডাক্টর বিনিয়োগ কেন্দ্র হিসেবে অসমকে তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা

দাভোস, ২২ জানুয়ারি:
সুইজারল্যান্ডের দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডাব্লিউইএফ) ২০২৬-এ অসমকে সেমিকন্ডাক্টর বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।

ডাব্লিউইএফ-এর মঞ্চে তিনি আইবিএম, সিনপসিস, কোয়ালকমের মতো বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি সংস্থার শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেন। বৈঠকগুলিতে অসমের নীতিগত স্বচ্ছতা, উন্নত পরিকাঠামো এবং দক্ষ মানবসম্পদের বিষয়টি তুলে ধরে রাজ্যের বিনিয়োগ প্রস্তুতির কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।

বুধবার অনুষ্ঠিত বিজনেস সামিটে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “আইবিএম থেকে শুরু করে সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেমের প্রায় সব বড় বৈশ্বিক সংস্থার সঙ্গেই আমাদের বৈঠক হয়েছে। গত তিন দিনে আমরা একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করেছি।”

অসমের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রবেশদ্বার হিসেবে রাজ্যের কৌশলগত অবস্থান এবং শিল্পবান্ধব পরিবেশকে বিনিয়োগ আকর্ষণের বড় শক্তি হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। সেমিকন্ডাক্টর, গ্রিন এনার্জি ও পর্যটন ক্ষেত্রে প্রায় এক লক্ষ কোটি টাকার সম্ভাব্য বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা চলছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

ডাব্লিউইএফ-এর তৃতীয় দিনে আইবিএম-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট গ্যারি কোহেনের সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠক করেন হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। এই বৈঠকে দক্ষতা উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হয়। শীঘ্রই আইবিএম-এর একটি প্রতিনিধি দল অসম সফরে আসতে পারে বলে জানা গেছে।

এছাড়াও টাটা গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান এন. চন্দ্রশেখরনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, টাটা গোষ্ঠীর উপস্থিতি অসমে অন্যান্য বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ডাব্লিউইএফ-এ মুখ্যমন্ত্রীর উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচির অন্যতম আকর্ষণ ছিল সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের বৈশ্বিক নেতাদের নিয়ে একটি রাউন্ড টেবিল বৈঠক। এই আলোচনায় সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং বহুমুখী সাপ্লাই চেন গড়ে তোলার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। সিনপসিস, কোয়ালকম, অ্যানালগ ডিভাইসেস, থার্মো ফিশার, হানিওয়েল এবং হেনকেলের সিনিয়র প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই সংস্থাগুলি অসমের সঙ্গে অংশীদারিত্বে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। পাশাপাশি তিনি বিশ্বব্যাপী শিল্পনেতা ও নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠকের মাধ্যমে রাজ্যের বিনিয়োগ ও উন্নয়ন যাত্রাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

সম্মেলনের ফাঁকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, ভারতের অর্থনৈতিক ভাবমূর্তি এখন আর কয়েকটি নির্দিষ্ট রাজ্যে সীমাবদ্ধ নয়। আজ দেশের প্রতিটি রাজ্যই বৈশ্বিক বিনিয়োগের জন্য উপযুক্ত। অসমের মতো রাজ্যের আন্তর্জাতিক মঞ্চে উপস্থিতি ‘সমগ্র জাতি’ ভিত্তিক উন্নয়নের বার্তা দিচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Leave a Reply