আগরতলা, ২১ জানুয়ারি: পূর্ণরাজ্য দিবস উপলক্ষ্যে ত্রিপুরাবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। এছাড়া, স্বাস্থ্য মন্ত্রী জে পি নাড্ডা এবং বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীনও ত্রিপুরাবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন৷
আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী মুখ্যমন্ত্রী অধ্যাপক( ডা.) মানিক সাহাকে চিঠি দিয়ে পূর্ণরাজ্যের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ওই চিঠিতে তিনি লেখেন, ত্রিপুরা এক সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও কর্মঠ মানুষের রাজ্য। এই সুন্দর রাজ্যে একাধিকবার সফরের সুযোগ হয়েছে, যার মধ্যে সর্বশেষ ছিল ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে নবরাত্রির শুরুতে। সে সময় মাতৃ ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দিরে প্রার্থনা করা হয় এবং মন্দির চত্বরে চলমান উন্নয়নমূলক কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মানুষ, ত্রিপুরাসহ, নিজেদের জাতীয় মূলস্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন মনে করতেন। এই বাস্তবতা বদলানোর সুযোগ পাওয়া সরকারের জন্য গর্বের বিষয়। দূরত্ব কমানো, আবেগী সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং এই অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে গভীর সংযোগ স্থাপনই ছিল এই প্রচেষ্টার মূল লক্ষ্য। ‘পূর্বোদয়’ ভাবনার কথা উল্লেখ করে বলা হয়, পূর্ব ভারতের অগ্রগতিকে ত্বরান্বিত করার এই দৃষ্টিভঙ্গি উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও পরিবর্তন আনছে। অষ্টলক্ষ্মী মহোৎসবের মাধ্যমে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সম্ভাবনা তুলে ধরা, স্টার্টআপ ও বিনিয়োগ সম্মেলন আয়োজন, এবং রাজ্যগুলোর স্বতন্ত্র পণ্যের জন্য জিআই ট্যাগ প্রদান—সবই অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের একই দর্শনের অংশ।
তাঁর কথায়, গত আট বছরে কেন্দ্রের এনডিএ সরকার ও রাজ্যের ডাবল ইঞ্জিন সরকার মিলিতভাবে ত্রিপুরার রূপান্তরের জন্য নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছে। ২০১৮ ও ২০২৩ সালে জনগণের দেওয়া ঐতিহাসিক ম্যান্ডেটের চেতনাকে সম্মান জানিয়েই এই প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগের ফলে ত্রিপুরার মানুষের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। ভৌত ও সামাজিক পরিকাঠামো শক্তিশালী করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক প্রকল্প সরাসরি সুফল দিয়েছে। সম্প্রতি বিশেষ উন্নয়ন প্যাকেজের আওতায় নতুন উপাদান অনুমোদন করা হয়েছে, যা বিশেষ করে রাজ্যের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।।২০২২ সালে আগরতলার মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দরের নতুন সমন্বিত টার্মিনাল ভবনের উদ্বোধন যোগাযোগ ব্যবস্থা, বাণিজ্য ও পর্যটনকে আরও গতি দিয়েছে।
বার্তায় আরও বলা হয়, এক সময় ত্রিপুরার কিছু অঞ্চল বিদ্রোহ ও অশান্তিতে জর্জরিত ছিল। আজ সেই পরিস্থিতি বদলেছে। শান্তি ও উন্নয়নের পথ বেছে নিয়ে রাজ্যের মানুষ সাহস ও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছে। ২০২৪ সালে এনএলএফটি ও এটিটিএফ-এর সঙ্গে শান্তি চুক্তি রাজ্যে নতুন আশার সূচনা করেছে। ত্রিপুরার মানুষ পশ্চাদমুখী মতাদর্শ প্রত্যাখ্যান করে উন্নয়নমুখী শাসনের ওপর আস্থা রেখেছেন। মাতৃ ত্রিপুরা সুন্দরীর আশীর্বাদে ত্রিপুরা মহারাজা বীর বিক্রম কিশোর মাণিক্য বাহাদুরের স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে আরও উচ্চতায় পৌঁছাবে এই প্রত্যাশাই ব্যক্ত করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ পূর্ণরাজ্য দিবস উপলক্ষ্যে ত্রিপুরাবাসীর শুভ কামনা করেছেন৷ এদিকে, স্বাস্থ্য মন্ত্রী জগৎপ্রকাশ নাড্ডা এক টুইট বার্তায় বলেন, পূর্ণরাজ্য দিবসে ত্রিপুরার ভাই ও বোনদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন৷ সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পরিশ্রমী মানুষের শক্তিতে ভর করে ত্রিপুরা উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে নিরবচ্ছিন্নভাবে এগিয়ে চলেছে। তিনি প্রার্থনা করেন মা ত্রিপুরা সুন্দরীর আশীর্বাদে ত্রিপুরার প্রতিটি পরিবারে সমৃদ্ধি, শান্তি ও সুস্বাস্থ্য বিরাজ করুক।
বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নিতীন নবীন আজ এক টুইট বার্তায় বলেন, রাজ্যের প্রতিষ্ঠা দিবসে ত্রিপুরায় আমার ভাই ও বোনদের অভিনন্দন৷ সমস্ত চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, এখানকার মানুষের জীবনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব এবং দেশের অগ্রগতির প্রতি উৎসর্গের অনুভূতি অনুকরণযোগ্য৷ পাশাপাশি, পূর্ণ রাজ্য দিবস উপলক্ষে মণিপুর ও মেঘালয়ের জনগণকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন ভারতের সামগ্রিক অগ্রগতি ও উন্নয়নে মণিপুর ও মেঘালয়ের জনগণের অবদান অত্যন্ত গর্বের বিষয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁদের নিষ্ঠা, পরিশ্রম ও আত্মত্যাগ দেশের উন্নয়ন যাত্রাকে আরও শক্তিশালী করেছে।
এদিকে, ত্রিপুরার রাজ্য প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে উষ্ণ শুভেচ্ছা জানানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও শ্রদ্ধা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী অধয়াপক (ডা.) মানিক সাহা।

