পানিসাগরে শুরু ৯ম ‘রাংলং খোহুই’ উৎসব, বর্ণিল আকাশবাতি ও ঐতিহ্যবাহী ঘণ্টাধ্বনিতে শুভ সূচনা

আগরতলা, ২১ জানুয়ারি : ঐতিহ্যবাহী ঘণ্টার ধ্বনি ও রঙিন আকাশবাতির আলোয় আলোকিত হয়ে উঠল পানিসাগরের ইন্দুরাইল মাঠ। উত্তর ত্রিপুরা জেলার পানিসাগর মহকুমায় গতকাল সন্ধ্যা আনুমানিক আটটা নাগাদ শুরু হলো রাংলং সম্প্রদায় (হালাম)-এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক উৎসব—৯ম ‘রাংলং খোহুই’। এই জনজাতীয় মহোৎসবকে কেন্দ্র করে গোটা এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

রাংলং সম্প্রদায়ের প্রথা অনুযায়ী ঘণ্টা বা বেল বাজিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পূর্ব ত্রিপুরা লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ কৃতি দেববর্মা। এরপর মঙ্গল ও শান্তির প্রতীক হিসেবে আকাশে ওড়ানো হয় রঙিন আকাশবাতি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ কৃতি দেববর্মা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিপরা মথার প্রতিষ্ঠাতা ও রাজপরিবারের সদস্য মহারাজা প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মণ, ভবরঞ্জন রিয়াং, কমল কলই, রালংমরিং হালাম-সহ এলাকার বিশিষ্ট সমাজসেবী ও জনজাতি নেতৃবৃন্দ।

উদ্বোধনী ভাষণে সাংসদ কৃতি দেববর্মা বলেন, রাংলং সম্প্রদায়ের এই ঐতিহ্য আমাদের সংস্কৃতির গর্ব। ঘণ্টাধ্বনি ও আকাশবাতির মাধ্যমে উৎসবের সূচনা আমাদের কৃষ্টির উচ্চতাকেই তুলে ধরে।

অন্যদিকে মহারাজা প্রদ্যুৎ কিশোর দেববর্মণ তাঁর বক্তব্যে বলেন,আমাদের কৃষ্টি ও ঐতিহ্যই আমাদের পরিচয়। নয় বছরে পদার্পণ করা এই উৎসব প্রমাণ করে আমরা আমাদের শিকড় কতটা যত্নের সঙ্গে আগলে রাখছি। তিনি আরও বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে না চললে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ভূমিপুত্রদের স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বিশেষভাবে অনুরোধ করেন, অল্প অর্থের বিনিময়ে যেন হালাম সম্প্রদায়ের মানুষ নিজেদের জমি বিক্রি না করেন।

তিন দিনব্যাপী এই উৎসবকে কেন্দ্র করে ইন্দুরাইল মাঠে জনসমুদ্রের সৃষ্টি হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণে জনজাতি হস্তশিল্প, ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও নানা ধরনের খাদ্যদ্রব্যের স্টলগুলিতে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

উৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী দু’দিন ধরে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ‘রাংলং খোহুই’ উৎসবের আনন্দ আরও বিস্তৃত হবে।

Leave a Reply