ওয়াশিংটন, ২০ জানুয়ারি :
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এমন একটি মানচিত্র ও ছবি শেয়ার করেছেন, যেখানে কানাডা, গ্রিনল্যান্ড ও ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এই পোস্ট ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শেয়ার করা একটি ছবিতে দেখা যায়, ওভাল অফিসে বসে রয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর পিছনে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকায় কানাডা, গ্রিনল্যান্ড ও ভেনেজুয়েলাকে মার্কিন ভূখণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই ছবিতে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন-সহ একাধিক ন্যাটো নেতাকেও দেখা যায়।
আরেকটি পোস্টে ট্রাম্পকে দেখা যায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন পতাকা উত্তোলন করতে। ছবিতে একটি মাইলফলকে লেখা রয়েছে—“গ্রিনল্যান্ড মার্কিন অঞ্চল পূর্ব ২০২৬”।
ভেনেজুয়েলা প্রসঙ্গে ট্রাম্প সম্প্রতি দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করার পর যুক্তরাষ্ট্র ওই দেশটির দায়িত্ব নেবে, যতদিন না সেখানে “নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবর্তন” সম্ভব হচ্ছে। পরে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানান, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে এবং ওয়াশিংটনের প্রভাব সেখানে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।
কানাডা নিয়েও আগেই বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। গত বছর তিনি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম রাজ্য হওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে নির্বাচনে জয়ের পর মে মাসে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি তাঁর প্রথম সাংবাদিক সম্মেলনেই সেই প্রস্তাব সরাসরি খারিজ করে দেন। তিনি বলেন, “ইচ্ছা আর বাস্তবতার মধ্যে পার্থক্য করা জরুরি।”
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ট্রাম্প মঙ্গলবার ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন। তিনি জানান, ডাভোসে একাধিক পক্ষের সঙ্গে এই বিষয়ে বৈঠক করবেন। ট্রাম্প পুনরায় দাবি করেন, গ্রিনল্যান্ড শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নয়, গোটা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই উত্তর আমেরিকান অ্যারোস্পেস ডিফেন্স কমান্ড জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের পিটুফিক স্পেস বেসে শিগগিরই মার্কিন সামরিক বিমান মোতায়েন করা হবে। সংস্থাটি জানায়, এটি বহুদিন ধরে পরিকল্পিত প্রতিরক্ষা কার্যক্রমের অংশ এবং এতে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ডেনমার্কের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।
নোরাড-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সামরিক তৎপরতা ডেনমার্কের সঙ্গে সমন্বয় করেই করা হয়েছে এবং গ্রিনল্যান্ড সরকারের কাছেও আগাম তথ্য পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। যদিও ঠিক কবে বিমানগুলি পৌঁছবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।
তবে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ নিয়ে ট্রাম্পের চাপ বাড়ানোর মধ্যেই এই সামরিক পদক্ষেপের সময়কাল বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক মহল।
_____

