বস্টন, ২০ জানুয়ারী:
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ২৩তম ইন্ডিয়া কনফারেন্স। আগামী ১৪ ও ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে হার্ভার্ড বিজনেস স্কুল ও হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলে যৌথভাবে আয়োজিত এই সম্মেলনে ক্রীড়া, রাজনীতি ও সৃজনশীল শিল্প জগতের একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব অংশ নেবেন। আয়োজকদের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, এবারের সম্মেলনের অন্যতম প্রধান বক্তা হিসেবে থাকছেন অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন পিভি সিন্ধু, সাংসদ শশী থারুর এবং প্রখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার মনীশ মালহোত্রা।
ছাত্র-পরিচালিত এই আন্তর্জাতিক মঞ্চটি গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারত উত্থান, বৈশ্বিক ভূমিকা এবং সাংস্কৃতিক পরিচয় নিয়ে আলোচনা করে আসছে। এবছরের থিম রাখা হয়েছে— “দ্য ইন্ডিয়া উই ইমাজিন”।
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় ও দুইবারের অলিম্পিক পদকজয়ী পিভি সিন্ধু একটি আলোচনাসভায় অংশ নেবেন, যেখানে ভারতের ক্রীড়া পরিকাঠামোর বিকাশ, নেতৃত্ব এবং জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে ক্রীড়া সাফল্যের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হবে। তাঁর সঙ্গে থাকবেন জিএমআর স্পোর্টসের সিইও সত্যম ত্রিবেদী। এই অধিবেশনে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ভারতের ক্রীড়া ভাবমূর্তি গঠনে অ্যাথলিট ও ক্রীড়া প্রশাসকদের ভূমিকা তুলে ধরা হবে।
সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে সাংসদ শশী থারুরের মূল বক্তৃতা। ভারতের সংসদের বিদেশ বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ও প্রাক্তন রাষ্ট্রসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল শশী থারুর তাঁর বক্তব্যে ভারতের সাংবিধানিক আদর্শ, গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরবেন। আয়োজকদের মতে, তাঁর উপস্থিতি সম্মেলনের বৌদ্ধিক ও নাগরিক আলোচনার গুরুত্বকে আরও দৃঢ় করবে।
সাংস্কৃতিক দিকটি তুলে ধরতে অংশ নেবেন প্রখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার মনীশ মালহোত্রা। দক্ষিণ এশীয় ট্রেইলব্লেজার্স-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও সিমি শাহের সঞ্চালনায় তাঁর অধিবেশনে ফ্যাশন, চলচ্চিত্র ও সৃজনশীল উদ্যোগ কীভাবে ভারতের বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক পরিচয় গড়ে তুলছে, তা নিয়ে আলোচনা হবে।
২৩ বছরে পা দেওয়া হার্ভার্ড ইন্ডিয়া কনফারেন্স বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত অন্যতম বৃহৎ ও প্রভাবশালী ভারত-কেন্দ্রিক ছাত্র-আয়োজিত সম্মেলন হিসেবে পরিচিত। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ থেকে প্রায় ১০০ জন ছাত্র এই সম্মেলনের আয়োজন করেন। এবছর দুই দিনে ৭০ জনেরও বেশি বক্তা অংশ নেবেন।
অনুষ্ঠানসূচিতে থাকছে অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার সঙ্গে একটি ফায়ারসাইড চ্যাট, জম্মু ও কাশ্মীর সরকারের সহযোগিতায় জলবায়ু ঝুঁকি ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক একটি পলিসি হ্যাকাথন এবং ২০ হাজার মার্কিন ডলারের বেশি পুরস্কারমূল্যের একটি স্টার্টআপ পিচ প্রতিযোগিতা।
আয়োজকদের মতে, এই সম্মেলন ভারতের উদীয়মান নেতৃত্ব ও বৈশ্বিক প্রভাবশালীদের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ব্যবসা, শাসনব্যবস্থা ও সংস্কৃতিতে ভারতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকা নিয়ে আলোচনা ও বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করে আসছে।

